তিস্তা নিউজ ডেস্ক
অনেকেই দাদের সমস্যায় ভোগেন। এই রোগ খুব ছোঁয়াচে এবং একজন থেকে অন্যের মধ্যে দ্রুত ছড়ায়। আজকাল ডাক্তার দেখিয়ে দামি ওষুধ খেয়ে, নিয়মিত মলম লাগিয়েও দাদমুক্ত হওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত?
ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেহকোষে এমন জিনগত পরিবর্তন ঘটেছে যে, প্রচলিত ওষুধগুলো কার্যকর হচ্ছে না। এমনকি সমগোত্রীয় শক্তিশালী কিছু ওষুধও অনেক সময় কাজ করছে না। এই সমস্যা তৈরি হয়েছে অনেকাংশেই পাড়ার দোকান থেকে ওষুধ কিনে ব্যবহার করার অভ্যাসের কারণে। তবে কিছু ঘরোয়া প্রতিকার দাদ নিরাময়ে কার্যকর হতে পারে।
দাদ রোগ একটি পরিচিত চর্মরোগ। এটি ছত্রাক বা ফাঙ্গাল সংক্রমণের কারণে হয়। মাথা থেকে পা পর্যন্ত শরীরের যেকোনো স্থানে দাদ হতে পারে। দ্রুত এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
দাদ রোগের লক্ষণ:
দাদের প্রধান উপসর্গ হলো ফুসকুড়ি বা র্যাশ। র্যাশ সাধারণত আংটির মতো গোলাকৃতি এবং রঙ লালচে হয়। রোগীর ত্বকের রঙ অনুসারে এটি রূপালি বা আশেপাশের ত্বকের তুলনায় গাঢ় দেখাতে পারে। র্যাশের উপরিভাগে ছোট ছোট আঁইশ থাকতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত স্থানে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে:
১. ত্বক কিছুটা খসখসে বা শুকনো হয়ে যাওয়া
২. স্থানটি ফুলে যাওয়া
৩. চুলকানি হওয়া
৪. আক্রান্ত ত্বকের ওপর চুল বা লোম থাকলে পড়ে যাওয়া
ঘরোয়া প্রতিকার:
সাবান-পানি:
লবণ পানি অ্যাস্ট্রিনজেন্ট হিসেবে কাজ করে যা ক্ষতস্থান দ্রুত সারায়। প্রতিদিন আক্রান্ত স্থানকে পানি এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। তারপর স্থানটি আলতোভাবে মুছে নিন।
নারকেল তেল:
নারকেল তেলে মাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। হালকা গরম করে তেলটি সরাসরি আক্রান্ত স্থানে লাগান। দিনে অন্তত তিনবার প্রয়োগ করুন।
টি-ট্রি অয়েল:
অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত। সংক্রমিত স্থানে কয়েক ফোঁটা লাগান। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। দিনে দুই থেকে তিনবার প্রয়োগ করুন।
অ্যাপল সাইডার ভিনেগার:
ফাঙ্গাসরোধী উপাদানযুক্ত। পরিষ্কার তুলোর সাহায্যে দিনে তিন থেকে পাঁচবার আক্রান্ত স্থানে লাগান। দাদ পুরোপুরি মিলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত ব্যবহার চালিয়ে যান।
হলুদ:
অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যযুক্ত। তাজা হলুদ বা হলুদ গুঁড়ার সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত স্থানে লাগান এবং শুকিয়ে নিন।
অ্যালোভেরা:
অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যযুক্ত। চুলকানি, অস্বস্তি এবং প্রদাহ কমাতে দিনে তিনবার সংক্রমিত স্থানে জেল প্রয়োগ করুন।
Leave a Reply