অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারণে ‘কিচেন কেবিনেট’ নামে একটি অনানুষ্ঠানিক বলয় সক্রিয় ছিল—সাবেক উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন-এর এমন মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, প্রতি মঙ্গলবার যমুনায় এই ‘কিচেন কেবিনেটের’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো এবং সেখানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা চলত।
তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর আলোচনা। বিশেষ করে কারা ছিলেন এই কথিত ‘কিচেন কেবিনেটের’ সদস্য—তা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়। আলোচনায় উঠে আসে সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমান এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া-র নামও।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন আসিফ মাহমুদ। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীতে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি কোনো কিচেন কেবিনেটের অংশ ছিলাম না। এ ধরনের আলোচনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করেন তিনি। আসিফের দাবি, ওই চুক্তির বিষয়ে এনসিপির সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। বরং বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বিএনপির পরামর্শ অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচিত চুক্তিটি বাস্তবায়নের পেছনে তারেক রহমান-এর ভূমিকা ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, ভবিষ্যতে যদি কোনো সরকার মনে করে চুক্তির শর্ত দেশের স্বার্থের পরিপন্থী, তাহলে তা সংশোধন বা বাতিল করার সুযোগ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের অনেক দেশই প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি পুনর্বিবেচনা বা বাতিল করেছে।
এদিকে ‘কিচেন কেবিনেট’ ইস্যু সামনে আসার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, অনানুষ্ঠানিক প্রভাববলয় এবং নীতিনির্ধারণে কারা প্রভাব বিস্তার করতেন—তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও বড় ইস্যুতে রূপ নিতে পারে।
Leave a Reply