জেলা প্রতিনিধি
নীলফামারী: শ্রমিকের ঘামেই গড়ে ওঠে অর্থনীতির ভিত—এই বার্তা সামনে রেখে “সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নবপ্রভাত” প্রতিপাদ্যে নীলফামারীতে মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস উদযাপিত হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) দিনব্যাপী নানা আয়োজনে মুখর ছিল জেলা শহর। জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে সকালেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় রঙিন ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো র্যালি। এতে অংশ নেন শ্রমিক, বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।
পরে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। সমাবেশে বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টার সঠিক বাস্তবায়ন এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তারা পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আন্তাজুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী, জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি নুর আলম এবং সাধারণ সম্পাদক জামিয়ার রহমানসহ অন্যরা।
অন্যদিকে শ্রমিক ঐক্য সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বড় বাজার এলাকায় পৃথক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন এতে সভাপতিত্ব করেন। সেখানে বক্তারা শ্রমিক ঐক্য জোরদার এবং অধিকার আদায়ে সম্মিলিত আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
দিবসটি উপলক্ষে শহীদ মিনার চত্বরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি ব্যতিক্রমধর্মী হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা ও রক্তদান সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আগ্রহী অংশগ্রহণকারীরা অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে বিনামূল্যে এই সেবায় অংশ নেন।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো নীলফামারীতেও মে দিবস উপলক্ষে শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ১৮৮৬ সালের শ্রমিক আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচিতে শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
Leave a Reply