নিজেস্ব প্রতিবেদন
নীলফামারীর জলঢাকায় শ্রমিক ঐক্য, অধিকার ও মর্যাদার প্রত্যয়ে উদযাপিত হলো মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস ২০২৬। “দুনিয়ার মজদুর—এক হও, লড়াই কর, মে দিবসের অঙ্গীকার গর্জে উঠুক আর একবার”—এই জাগ্রত স্লোগানে মুখর ছিল পুরো উপজেলা।
১ মে সকালে জলঢাকা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে জাতীয়, দলীয় ও কালো পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন জলঢাকা উপ-কমিটির সভাপতি মমিনুর রহমান সিনিয়র ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে সজ্জিত র্যালিটি পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শ্রমিক নেতারা পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রমিক আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
র্যালিতে বাস-মিনিবাস, মাইক্রো, ট্রাকসহ বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ শ্রমিকরা ব্যাপক অংশগ্রহণ করেন। এতে করে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় শ্রমিকদের এক মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল কমেট চৌধুরী, থানা অফিসার ইনচার্জ নাজমুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমির মোকলেসুর রহমান মাস্টার, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা হামিমুর রহমান হামীম, ট্রাক ট্যাংলড়ী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আমিনুর রহমান, বিএনপি নেতা রশিদুল ইসলাম বাঙ্গালীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ইউনুস আলী, কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম, শ্রমিক নেতা মজিবর রহমান, জুয়েল ইসলাম, জামিনুর রহমান, সুলতান মাহমুদ, গোলাম মোস্তফা এবং মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
পরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, ১৮৮৬ সালের শিকাগোর ঐতিহাসিক শ্রমিক আন্দোলনের চেতনায় বিশ্বব্যাপী পালিত হয় মে দিবস। সেই চেতনা ধারণ করেই জলঢাকায়ও দিনব্যাপী নানা আয়োজনে শ্রমিকদের ঐক্য, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
Leave a Reply