তিস্তা নিউজ ডেস্ক:
চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় শান্তি বৈঠক। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে দুই দিন ধরে চলা এই আলোচনায় যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে তিন পক্ষই আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আবুধাবিতেই পরবর্তী দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, প্রায় চার বছর ধরে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ বিরতির পর এটি ছিল ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি আলোচনা। মার্কিন কর্মকর্তারা আলোচনাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হিসেবে আখ্যা দিলেও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার কারণে আলোচনার পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে।
বৈঠক চলাকালীন সময়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ, পানি ও তাপ সরবরাহে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দেয়। এ প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।
জেলেনস্কি বলেন, আলোচনায় যুদ্ধ অবসানের কাঠামো, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তিনি আলোচনাকে গঠনমূলক উল্লেখ করলেও বলেন, এখনও বড় ধরনের বাধা রয়ে গেছে।
বৈঠকে ইউক্রেনের পক্ষে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ ও সামরিক গোয়েন্দা প্রধান কিরিলো বুদানভ। রাশিয়ার পক্ষে সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূতদের দীর্ঘ আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে, রাশিয়া খারকিভ অঞ্চলের একটি গ্রাম দখলের দাবি করলেও ইউক্রেন তা অস্বীকার করেছে।
Leave a Reply