আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত বিশ্বরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের আন্তর্জাতিক রাজনীতির সহকারী অধ্যাপক মুহানাদ সেলুম। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি চীনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে এবং বেইজিংকে এক জটিল ভারসাম্য রক্ষার অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চীন এই যুদ্ধে সরাসরি সামরিকভাবে যুক্ত হয়নি এবং হওয়ার সম্ভাবনাও কম। কারণ এমন পদক্ষেপ তাদের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হতে পারে। তবে একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রভাব বিস্তারও চীন চায় না, তাই ইরানকে সম্পূর্ণভাবে একা ফেলে দেওয়ার নীতিও তারা গ্রহণ করেনি।
মুহানাদ সেলুম আরও বলেন, চীন ইতোমধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানবিরোধী বিভিন্ন প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং একাধিক ক্ষেত্রে ভেটো প্রয়োগ করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত চাপ তৈরির উদ্যোগে বেইজিং বাধা দিয়েছে, যা ইরানের জন্য কূটনৈতিকভাবে বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, চীন প্রকাশ্যে সামরিক সহায়তা না দিলেও পরোক্ষভাবে ইরানের সঙ্গে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কিছু চীনা কোম্পানি সীমিত আকারে ইরানের সঙ্গে প্রযুক্তি ও শিল্পখাতে সহযোগিতা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই অবস্থানকে বলা হচ্ছে “কৌশলগত অস্পষ্টতা”—যেখানে তারা প্রকাশ্যে নিরপেক্ষতা বজায় রাখলেও আড়ালে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। এতে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কও অক্ষুণ্ণ থাকছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই সংঘাতে চীনের ভূমিকা ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা, সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
Leave a Reply