1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tistanewsbd : Md. Amdadul Hoque
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

রক্তাক্ত বেলুচিস্তান: ৪০ ঘণ্টার অ/ভি/যা/নে ১৪৫ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৩ Time View

তিস্তা নিউজ ডেস্ক:

গত ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে একযোগে ভয়াবহ বন্দুক ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। রাজধানী কোয়েটার পাশাপাশি গাওদার, মাসতাং ও নোশকি জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকাকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়। এতে মোট ৪৮ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৭ জন ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্য, আর বাকি ৩১ জন ছিলেন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক। হতাহতের এই তথ্য নিশ্চিত করেন বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।

হামলার পর পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী তালাল চৌধুরী এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, হামলাকারীরা সবাই সাধারণ বেসামরিক পোশাক পরিহিত ছিল। এই ছদ্মবেশ ব্যবহার করে তারা খুব সহজেই জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলোতে মিশে যেতে সক্ষম হয় এবং পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে হামলা প্রতিরোধে নতুন করে কৌশল নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

৩০ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বেলুচ স্বাধীনতাকামী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এসব হামলার দায় স্বীকার করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, ‘অপারেশন ব্ল্যাক স্টর্ম’-এর আওতায় পাকিস্তানের সেনা, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এই সমন্বিত হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই অভিযানে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করেছে।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, কোয়েটার একাধিক পুলিশ স্টেশন শক্তিশালী আইইডি বিস্ফোরণে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। এসব দৃশ্য বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তোলে। বিএলএ দাবি করেছে, অপারেশন ব্ল্যাক স্টর্মের আওতায় তারা পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৪ জন সদস্যকে হত্যা এবং ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

বিএলএ’র দায় স্বীকারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো বেলুচিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ও শনিবার টানা ৪০ ঘণ্টা ধরে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এত অল্প সময়ে এত বড় পরিসরের অভিযান আগে কখনও চালানো হয়নি।

ভৌগোলিক আয়তনের দিক থেকে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তান খনিজ সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ হলেও এটি দেশটির সবচেয়ে দরিদ্র ও অনগ্রসর অঞ্চল। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই এ অঞ্চলে স্বাধীনতা ও অধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র গোষ্ঠী আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ইসলামাবাদ বরাবরই এসব আন্দোলন কঠোর হাতে দমন করে আসছে, আর সাম্প্রতিক এই অভিযান সেই দীর্ঘদিনের নীতিরই সর্বশেষ প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 JaldhakaITPark
Theme Customized By LiveTV