আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নাম ইউক্রেনের বিতর্কিত ওয়েবসাইট ‘মিরোতোভোরেতস’–এর তালিকায় যুক্ত হওয়াকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এই ওয়েবসাইটে ইউক্রেনের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়, যা সমালোচকদের কাছে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘কিল লিস্ট’ নামে পরিচিত।
তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সময় ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে তিনি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মানবিক আগ্রাসনকে সমর্থন করেছেন, রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং রুশ প্রোপাগান্ডায় সহায়ক ভূমিকা রেখেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, সেখানে ২০১৯ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছ থেকে তিনি ‘অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ’ পদক গ্রহণের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো রাশিয়ার ওপর আরোপিত ক্রীড়া নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রুশ ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ফেরার সুযোগ থাকা উচিত এবং দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা ও বয়কট কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না; বরং হতাশা ও বিভাজন বাড়াচ্ছে।
ইনফান্তিনোর এ মন্তব্যের পর ইউক্রেন সরকারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তার সমালোচনা করেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা তাকে “নৈতিকভাবে অধঃপতিত” আখ্যা দিয়েছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার পর ফিফা ও উয়েফাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা রাশিয়ার দল ও খেলোয়াড়দের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করেছে। মস্কো এসব নিষেধাজ্ঞাকে বৈষম্যমূলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, খেলাধুলা ও অলিম্পিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক বিরোধের বাইরে রাখা উচিত।
যদিও মিরোতোভোরেতস ওয়েবসাইটটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বলে দাবি করে, এটি ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। তালিকাভুক্ত কিছু ব্যক্তি পরবর্তীতে হামলা বা সন্দেহজনক মৃত্যুর শিকার হওয়ায়, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে সাইটটি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
ইনফান্তিনোর নাম তালিকায় যুক্ত হওয়ার পর বিশ্ব ক্রীড়া ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনার নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং ক্রীড়া প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
Leave a Reply