1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tistanewsbd : Md. Amdadul Hoque
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন

‘নিষিদ্ধ’ দ্বীপে তেলের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে ইরান

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৯ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পারস্য উপসাগরের রোদে স্নাত খার্গ দ্বীপ, ইরানিদের কাছে পরিচিত ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’, দেশটির তেলের সাম্রাজ্যের হৃদয়। মাত্র ২২ বর্গকিলোমিটারের এই দ্বীপে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ব্যারেল তেল সমুদ্রের তলার পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশ্বের বাজারে পৌঁছায়। ইরানের মোট তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ রপ্তানি হয় এখান থেকে, বিশেষ করে এশিয়ার, বিশেষ করে চীনের বাজারে।

দ্বীপটি বুশেহর প্রদেশ থেকে ৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং মূল ভূখণ্ড থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কঠোর পাহারায়, সরকারি অনুমোদন ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারে না। ২০২৫ সালে এস অ্যান্ড পি গ্লোবাল জানিয়েছে, দ্বীপের টার্মিনালের ক্ষমতা আরও ২০ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি পেয়েছে।

খার্গ দ্বীপ কেবল তেলের জন্যই নয়, এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বও অসীম। হাজার বছরের মানব বসতি, এলামাইট, আকিমিনিড ও সাসানিড যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, সপ্তম শতাব্দীর মির মোহাম্মাদ মাজার, মির আরাম মাজার এবং পুরনো জরথুস্ত্রধর্মী ও খ্রিষ্টান কবর এখানে ইতিহাসকে রঙিন করেছে।

ঔপনিবেশিক যুগে প্রথম এই দ্বীপ দখল করে পর্তুগিজরা, পরে আসে ডাচরা। ১৭৬৬ সালে স্থানীয় শাসক তাদের তাড়িয়ে দেন। বিংশ শতাব্দীতে রেজা শাহ পাহলভি দ্বীপকে রাজনৈতিক বন্দীদের নির্বাসনের কেন্দ্র করেন। ১৯৫৮ সালে আধুনিক তেল যুগ শুরু হয়, ১৯৬০ সালে প্রথম বড় তেল চালান পাঠানো হয়, এবং ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধে দ্বীপ ভয়াবহ হামলার শিকার হলেও পুনরায় গড়ে তোলা হয়।

আজ খার্গ দ্বীপ কড়া সামরিক পাহারায় ঘেরা, পর্যটকের প্রবেশ নিষিদ্ধ। প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রয়েছে, আর সুপারট্যাংকারগুলো নীরবে বহন করে যাচ্ছে তেল। ইরানের বিখ্যাত লেখক Jalal Al-e-Ahmad একসময় দ্বীপটিকে বলেছিলেন, ‘পারস্য উপসাগরের এতিম মুক্তো’। সত্যিই, খার্গ দ্বীপ আজও ইরানের তেলের সাম্রাজ্য অটুট রাখছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 JaldhakaITPark
Theme Customized By LiveTV