আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ক্রমেই নতুন মাত্রা পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনি সশস্ত্র গোষ্ঠী Houthi movement, যাদের সম্ভাব্য সক্রিয় অংশগ্রহণ ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে ঘিরে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর ধীরে ধীরে এর বিস্তার ঘটছে। হুথিদের অবস্থান এবং ইরানের প্রতি তাদের সমর্থন পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে European Union।
লোহিত সাগরে নিয়োজিত ইইউর নৌ-মিশন জানিয়েছে, ইরানের পক্ষে হুথিদের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ‘অপারেশন আস্পাইডস’ নামের এই মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ একাধিক পোস্টে জানায়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিবন্ধিত হয়ে নির্ধারিত সামুদ্রিক নিরাপত্তা চ্যানেল ব্যবহার করে চলাচলের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সহায়তা চাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। মিশনটি আরও জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা ও নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তাদের নৌ-সম্পদ লোহিত সাগর এলাকায় সতর্ক অবস্থানে মোতায়েন রয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালে ফিলিস্তিনে ইসরাইলি অভিযানের প্রতিবাদে হুথিরা সামরিক পদক্ষেপ নেয়। সে সময় তাদের হামলায় ইসরাইল ও পশ্চিমা দেশের একাধিক নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং বিকল্প হিসেবে জাহাজগুলোকে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূল ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হয়।
সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার নতুন করে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
Leave a Reply