আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে দেশটি সংশোধিত ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর বিশেষ ইউনিট ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-ঘনিষ্ঠ বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—ইরানের আশপাশের দেশগুলো থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে কোনো সামরিক আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি-তে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে তিনি ইরানের এই ১৪ দফা প্রস্তাব পেয়েছেন। তবে তিনি সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, এটি বাস্তব কোনো ইতিবাচক সমাধান বয়ে আনবে কি না তা অনিশ্চিত। তার এই প্রতিক্রিয়া দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতির বিষয়টিই তুলে ধরে।
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান-এর মধ্যস্থতায় প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। এতে শুধু দ্বিপাক্ষিক নয়, বরং লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে, যা একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক সমাধানের ইঙ্গিত দেয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দুই মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ইরান মনে করে, দীর্ঘ সময়ের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির বদলে ৩০ দিনের মধ্যেই সংকটের মূল ইস্যুগুলোর স্থায়ী সমাধান হওয়া উচিত। এ কারণে তারা যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পরিবর্তে পুরোপুরি যুদ্ধ বন্ধের ওপর জোর দিয়েছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, “আমাদের নতুন প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো যুদ্ধ বন্ধ করা। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে—তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কূটনৈতিক পথে এগোবে, নাকি সহিংসতার দিকে যাবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান—দুই ক্ষেত্রেই মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে।
Leave a Reply