1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tistanewsbd : Md. Amdadul Hoque
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ন

ডোনাল্ড ট্রাম্পর টেবিলে ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাব খতিয়ে দেখছেন

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
  • ১৮ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ সামনে এনেছে ইরান। যুদ্ধের অবসান ঘটাতে দেশটি ১৪ দফার একটি সংশোধিত প্রস্তাব দিয়েছে, যা বর্তমানে পর্যালোচনা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার (৩ মে) এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের তিনি সংক্ষেপে বলেন, “এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানাব।”

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে ৯ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। তার জবাবেই ইরান এই ১৪ দফা পরিকল্পনা তৈরি করে পাঠিয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান, যা আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের স্থায়ী অবসানই আমাদের লক্ষ্য। আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব দিয়েছি—এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের। তারা কূটনীতি বেছে নেবে, নাকি সংঘাত অব্যাহত রাখবে, সেটাই দেখার বিষয়।”

ইরানের প্রস্তাবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর শর্ত তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো সামরিক আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা,
ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহার,
সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া,
বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া,
এবং লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ করা।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র দুই মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের অবস্থান—অস্থায়ী সমাধান নয়, বরং ৩০ দিনের মধ্যেই সব ইস্যুর স্থায়ী নিষ্পত্তি করতে হবে। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত জরুরি।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের একটি আগের প্রস্তাব নাকচ করেছিলেন। তবে এরপরও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে তিন সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে সাময়িকভাবে স্থিতিশীল রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ১৪ দফা প্রস্তাব শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন মূল প্রশ্ন—ওয়াশিংটন কি এই প্রস্তাবকে গ্রহণযোগ্য মনে করবে, নাকি উত্তেজনা আরও বাড়বে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 JaldhakaITPark
Theme Customized By LiveTV