“শেষ রক্ষা হয় না, যখন ফুরিয়ে আসে সময়”—এই প্রবাদ যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ক্ষেত্রে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনা, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও কূটনৈতিক সংঘাতের পর এক নাটকীয় সামরিক অভিযানে তাকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার সম্পর্ক বহু বছর ধরেই ছিল চরম উত্তেজনাপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞা, ক্ষমতার বৈধতা নিয়ে বিরোধ এবং কূটনৈতিক সংঘাত দুই দেশকে মুখোমুখি অবস্থানে নিয়ে যায়। সেই উত্তেজনার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে চলতি বছরের জানুয়ারিতে।
মার্কিন জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যানকেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২ জানুয়ারি ভেনিজুয়েলার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩০ মিনিটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হয় একটি বিশেষ সামরিক অভিযান, যার নাম দেওয়া হয় “অবসোলেট রিজার্ভ”। এই অভিযানের প্রস্তুতি চলছিল কয়েক মাস ধরে।
ড্যানকেন জানান, অভিযানের সময় মাদুরো রাজধানী কারাকাসের একটি সুরক্ষিত স্থাপনায় অবস্থান করছিলেন। তাকে আটক করতে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। অভিযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আকাশপথে মোতায়েন করা হয় প্রায় ১৫০টি যুদ্ধবিমান, যা ভেনিজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর করে দেয়।
অভিযান চলাকালে ভেনিজুয়েলার সেনারা একটি হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে হামলা চালালেও সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। রাত ২টা ১ মিনিটে মার্কিন বিশেষ বাহিনী মাদুরোর অবস্থানস্থলে পৌঁছায়।
মার্কিন পক্ষের দাবি অনুযায়ী, মাদুরো ও তার স্ত্রী কোনো ধরনের সংঘর্ষে না জড়িয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তবে তাদের সরিয়ে নেওয়ার সময় মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে পাল্টা জবাব দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মার্কিন বাহিনীর কেউ হতাহত হয়নি।
ড্যানকেন আরও জানান, ভোর ৪টা ২৯ মিনিটের মধ্যে মাদুরোকে বহনকারী দলটি সমুদ্রসীমায় পৌঁছে যায়। সেখান থেকে তাকে একটি যুদ্ধজাহাজে তোলা হয়, যা নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা দেয়।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মাদুরো একটি সেফ রুমে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন, তবে তিনি সফল হননি। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সেফ রুমে ঢুকতে পারলেও শেষ পর্যন্ত তার রক্ষা পাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।
Leave a Reply