তিস্তা নিউজ ডেস্ক:
ইসরাইলি কারাগারে বন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা ৫৪ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে ইসরাইল। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ইসরাইলি কারাগারে আটক থাকা এসব ফিলিস্তিনির লাশ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গাজা ও পশ্চিম তীরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মরদেহগুলো রেডক্রসের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। পরে সেগুলো নিজ নিজ এলাকায় পাঠানো হয়, যেখানে স্বজনরা শোক ও ক্ষোভের মধ্য দিয়ে মরদেহ গ্রহণ করেন। অনেক পরিবারের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে ইসরাইল তাদের স্বজনদের মরদেহ আটকে রেখেছিল।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, ফেরত দেওয়া মরদেহগুলোর অনেকের মৃত্যু হয়েছে ইসরাইলি কারাগারে চিকিৎসার অভাব, নির্যাতন ও অমানবিক পরিবেশের কারণে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ইসরাইলি কারাগারগুলোতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি যে আচরণ করা হয়, তা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’ তিনি আরও জানান, মরদেহগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।
মরদেহ গ্রহণের সময় গাজা ও পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় শোক মিছিল ও জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। অনেক জায়গায় হাজারো মানুষ অংশ নেয় এবং ইসরাইলবিরোধী স্লোগান দেয়। নিহতদের পরিবার দ্রুত বিচার ও আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণেই এতদিন মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়নি। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মরদেহ আটকে রাখা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী এবং এটি পরিবারগুলোর জন্য চরম মানসিক যন্ত্রণা সৃষ্টি করে।
প্রসঙ্গত, ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মরদেহ নিজেদের হেফাজতে রেখে আসছে। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক সমঝোতা কিংবা বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে এসব মরদেহ ফেরত দেওয়া হয়। সর্বশেষ ৫৪ জনের মরদেহ হস্তান্তরের ঘটনাটি ফিলিস্তিনিদের মধ্যে গভীর শোকের পাশাপাশি নতুন করে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
Leave a Reply