আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার ঢেউ ছড়িয়েছে, যখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ডিমোনা শহরের পারমাণবিক স্থাপনায় ধাক্কা দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, এটি প্রতিশোধমূলক হামলা, যা ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কমপ্লেক্স এ পূর্বে সংঘটিত হামলার জবাব হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।
ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার (২১ মার্চ) সকালে নাতাঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। তবে তারা নিশ্চিত করেছে, কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থের লিকেজ বা পরিবেশগত ঝুঁকির ঘটনা ঘটেনি।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ডিমোনার একটি পারমাণবিক গবেষণা সংক্রান্ত স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন, যদিও এখনও পূর্ণাঙ্গ হতাহত তালিকা প্রকাশ হয়নি।
ডিমোনা শহরটি অবস্থিত শিমন পেরেজ নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার এর নিকটে—যা ইসরাইলের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত এবং কঠোর নিরাপত্তায় রাখা হয়।
আন্তর্জাতিক পরমাণু তদারকি সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, তারা হামলার খবর সম্পর্কে অবগত হলেও, নেগেভ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাদের কাছে পৌঁছায়নি। সংস্থাটি আরও নিশ্চিত করেছে, সেখানে কোনো অস্বাভাবিক বিকিরণ শনাক্ত হয়নি এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাতাঞ্জে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ডিমোনায় পাল্টা আঘাত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে। ইরান আগে থেকেই সতর্ক করেছিল, তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে তারা জবাব দিতে বাধ্য হবে। আন্তর্জাতিক মহল উভয় পক্ষকে সংযম দেখাতে আহ্বান জানিয়েছে।
Leave a Reply