ক্রীড়া ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রভাব ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ স্পিনার সাইমন হার্মার। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই তাদের বিপুল বাণিজ্যিক শক্তির জোরে কার্যত আইসিসি-র ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হার্মার বলেন, “বাণিজ্যিক শক্তিই এখন মূল নিয়ামক। সেই জায়গায় ভারত অনেক এগিয়ে, তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তাদের প্রভাব স্পষ্ট। অনেক সময় মনে হয়, বিসিসিআই-ই আইসিসিকে চালাচ্ছে। তবে খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের কাজ মাঠেই—জয়ই একমাত্র উপায়, যা এই বাস্তবতা বদলাতে পারে।”
সম্প্রতি ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আলোচনায় আসেন ৩৭ বছর বয়সী এই অফস্পিনার। চার ইনিংসে মাত্র ৮.৯৪ গড়ে ১৭ উইকেট শিকার করে তিনি সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন—যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা দলও সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা-র নেতৃত্বে তারা আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে নেয়, যেখানে ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড-এ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো ছিল বড় অর্জন। এছাড়া ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল, ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে ধারাবাহিক সাফল্যের নজির গড়েছে প্রোটিয়ারা।
বর্তমানে টেস্ট র্যাংকিংয়েও দক্ষিণ আফ্রিকা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তারা দ্বিতীয় স্থানে থেকে শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার পেছনে রয়েছে এবং তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতের চেয়েও পয়েন্টে এগিয়ে। একইভাবে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায়ও তারা শীর্ষ প্রতিযোগীদের মধ্যে রয়েছে।
সামনের সূচি আরও চ্যালেঞ্জিং। চলতি বছর অস্ট্রেলিয়া তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আসবে—যা স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারি-এর পর তাদের প্রথম সফর। এরপর ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ খেলবে প্রোটিয়ারা।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, হার্মারের মন্তব্য শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিমত নয়; এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অর্থনৈতিক শক্তি, সম্প্রচার অধিকার এবং প্রশাসনিক প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। ফলে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি পর্দার আড়ালের ক্ষমতার খেলাও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ—তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
Leave a Reply