নিজস্ব প্রতিনিধি
২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দেশত্যাগে বাধ্য হন বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই দিন থেকে আজ পর্যন্ত দেশে তার পদচারণা নেই। মামলা, দণ্ড, নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন তার প্রত্যাবর্তনের পথ বন্ধ ছিল।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আমূল পরিবর্তিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, তখন থেকে দেশের অঘোষিত অভিভাবক হিসেবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উত্থিত হন তারেক রহমান। দেশের তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়—সবার মনেই তখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: কবে ফিরবেন তিনি?
হাসিনাবিহীন ১৫ মাস পার হলেও বিএনপির শীর্ষ এই নেতার পদচারণা এখনও পড়েনি দেশের মাটিতে। দলীয় নেতারা আশা প্রকাশ করেন, তিনি দ্রুত দেশে ফিরবেন—তবে ‘কখন’ তা স্পষ্ট করে কেউ বলতে পারছেন না। এমনকি তারেক রহমান নিজেও নির্দিষ্ট সময় জানাতে নারাজ।
বর্তমানে তার দেশে ফেরার আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে তার মা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থার কারণে। দেশজুড়ে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া চলছে, আর সেই প্রেক্ষিতেই তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে ব্যস্ত আলোচনা চলছে।
নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, কেন এখনই দেশে আসা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি লিখেছেন, সংকটের সময় মায়ের স্নেহস্পর্শ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তীব্র হলেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার একক নয়। রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে এই মুহূর্তে দেশে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না। নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
এই নিয়ে জানতে চাওয়া হলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কোবিদ খোকন বলেন, “তারেক রহমান অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ। দলের ও দেশের প্রয়োজন বিবেচনা করে কখন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এটি তিনিই ভালো জানেন। পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূল হলেই তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন।”
দীর্ঘ সময় মামলা ও দণ্ডপ্রাপ্ত থাকলেও, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তারেক রহমান এসব মামলার আইনি প্রক্রিয়ায় খালাস পান। দলীয় সূত্র জানায়, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তিনি দেশে ফিরতে পারেন এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
সব মিলিয়ে, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সঙ্গে তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের আগ্রহ তীব্র হয়েছে। প্রতীক্ষা এখনো অব্যাহত, আর প্রত্যাশার মাত্রা বাড়ছে—দলীয় নেতৃত্ব ও সমর্থকদের মধ্যে আশা ও আলোচনার কেন্দ্রে এখন তারেক রহমানের নাম।
Leave a Reply