তিস্তা নিউজ ডেস্ক
চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকেই দেশে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বিশ্লেষকরা। গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বিশেষ করে সেচ মৌসুমের শুরু এবং শহরাঞ্চলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি বছর এ সময় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ পড়ে থাকলেও চলতি বছরে জ্বালানি সংকটের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের প্রবণতা দেখা দিতে শুরু করেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকা ও সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ বাড়ছে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের ঘাটতি, প্রাকৃতিক গ্যাসের সীমিত সরবরাহ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া ভর্তুকির চাপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না, যার প্রভাব পড়ছে জাতীয় গ্রিডে।
এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্প ও কৃষি খাতে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হলে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এই সংকট দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রপ্তানি আয়, শিল্প প্রবৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা—সবকিছুই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিকল্প জ্বালানি উৎসের ব্যবহার বাড়ানো, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা উন্নয়ন এবং চাহিদা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। পাশাপাশি সৌর ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদে কার্যকর লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই জ্বালানি নীতিমালা গ্রহণই এ সংকট মোকাবেলার প্রধান উপায় হতে পারে।
Leave a Reply