তিস্তা নিউজ প্রতিবেদন
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আগামী সোমবার (১ জুন) অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে মামলার বিচার কার্যক্রম।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত শেষে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র ইতোমধ্যে আদালতের আমলে নেওয়া হয়েছে। মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। সোমবার ট্রাইব্যুনালে চার্জগঠন শুনানির মাধ্যমে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, তদন্তে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতার অভিযোগও উঠে এসেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার বিভিন্ন আলামত, মেডিকেল রিপোর্ট, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে, যারা বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দেবেন।
গত ২৪ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই চার্জগঠন শুনানির অপেক্ষায় ছিল মামলাটি।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তদন্তে জানা যায়, হত্যার আগে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল। মর্মান্তিক এ ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়।
এরই মধ্যে সরকারও মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে। আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে তিনি আশা করেন।
সোমবারের শুনানির মধ্য দিয়ে আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। এখন ভুক্তভোগী পরিবারসহ সারা দেশের মানুষের দৃষ্টি আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম ও রায়ের দিকে।
Leave a Reply