1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tistanewsbd : Md. Amdadul Hoque
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ন

ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন নগরবাসী

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
  • ১০ Time View

তিস্তা নিউজ প্রতিবেদন

পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষের পথে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার নগরবাসী। তবে অন্যান্য বছরের মতো এবার ফিরতি যাত্রায় তীব্র ভিড় বা দুর্ভোগের চিত্র দেখা যাচ্ছে না। সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীরা তুলনামূলক স্বস্তির মধ্যেই রাজধানীতে পৌঁছাচ্ছেন।

রোববার (৩১ মে) সকাল থেকে রাজধানীর প্রধান বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটগুলোতে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপস্থিতি বাড়তে দেখা যায়। গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, ফিরতি যাত্রা ছিল স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রিত। কোথাও অতিরিক্ত ভিড়, টিকিট সংকট কিংবা পরিবহন সংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে এবার অধিকাংশ মানুষ একসঙ্গে রাজধানীতে ফিরছেন না। কেউ ছুটির শুরুতে, কেউ মাঝামাঝি সময়ে এবং কেউ শেষ দিকে ফিরছেন। ফলে যাত্রীচাপ কয়েক দিনে ছড়িয়ে পড়ায় পরিবহন ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়নি। একই কারণে মহাসড়কেও বড় ধরনের যানজট দেখা যায়নি।

দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে লঞ্চযোগে ঢাকায় ফেরা যাত্রীরা জানিয়েছেন, এবারের নদীপথের যাত্রা ছিল নির্বিঘ্ন। অধিকাংশ লঞ্চ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সদরঘাটে পৌঁছেছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন বা ঘাটে বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ছিল না বললেই চলে। অনেক যাত্রীর মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের ফিরতি যাত্রা অনেক বেশি আরামদায়ক।

সড়কপথেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। উত্তরবঙ্গ, ময়মনসিংহ বিভাগ এবং মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাসগুলোতে যাত্রীচাপ থাকলেও তা ছিল সহনীয়। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রাজধানীতে পৌঁছাতে পেরেছেন অধিকাংশ যাত্রী। বাস কাউন্টারগুলোতেও দীর্ঘ লাইনের পরিবর্তে ছিল স্বাভাবিক কার্যক্রম।

রেলপথে ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। কমলাপুর রেলস্টেশনে বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেন থেকে নেমে যাত্রীরা জানান, ট্রেনের সময়সূচি মোটামুটি ঠিক ছিল এবং যাত্রাপথে বড় ধরনের কোনো ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়নি। স্টেশনজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকায় যাত্রীদের চলাচলও ছিল স্বস্তিদায়ক।

তবে এবারের যাত্রা ব্যবস্থায় একটি ভিন্ন চিত্রও দেখা যাচ্ছে। ঈদের সময় কর্মব্যস্ততা বা অন্যান্য কারণে যারা বাড়ি যেতে পারেননি, তাদের অনেকে ছুটির শেষ ভাগে পরিবার নিয়ে গ্রামের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। ফলে রাজধানীর পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে একই সঙ্গে ঢাকায় ফেরা এবং ঢাকা ছাড়ার যাত্রীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুইমুখী এই যাত্রীপ্রবাহ পরিবহন কেন্দ্রগুলোকে ব্যস্ত রাখলেও কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেনি।

পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যাত্রীদের চাপ দুই দিকে বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় ব্যবস্থাপনা সহজ হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিটের কালোবাজারি কিংবা যানবাহনের সংকটের মতো অভিযোগও তুলনামূলকভাবে কম এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পরিবহন কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তৎপরতাও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হয়েছে।

এদিকে সোমবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক ও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান খুলে যাওয়ায় রোববার বিকেল ও রাতের দিকে রাজধানীমুখী যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও সংশ্লিষ্টদের আশা, ধাপে ধাপে মানুষের ফেরা অব্যাহত থাকায় বড় ধরনের চাপ বা ভোগান্তির আশঙ্কা কম।

দীর্ঘ ছুটির আমেজ শেষে রাজধানী আবার ফিরছে তার চিরচেনা কর্মব্যস্ত রূপে। গ্রামবাংলার ঈদের আনন্দ স্মৃতিতে রেখে জীবিকার তাগিদে মানুষ ফিরছে নগরজীবনে—আর সেই ফেরার যাত্রা এবার অনেকটাই স্বস্তি ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 JaldhakaITPark
Theme Customized By LiveTV