তিস্তা নিউজ ডেস্ক
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারের জ্বালানি নীতি এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ যেন তেলের ওপর ভাসছে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেছেন, সরকারি দলের সংসদে বক্তব্য শুনলে মনে হয় দেশে সোনার নহর বয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিরোধী দল জ্বালানিসংকট নিয়ে কথা বলতে চাইলে নোটিশ আলোচনায় আসতে দেওয়া হয় না। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ভয় পাচ্ছে এবং এভাবে জনগণের কাছে সত্য প্রকাশ পাবে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহন ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন থাকা সত্ত্বেও সরকার রিজার্ভ বেশি থাকার দাবি করে প্রকৃত সত্য আড়াল করতে চাইছে। সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বলতে গেলে নোটিশ আলোচনায় আসতে দেওয়া হয় না।
শফিকুর রহমান বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে এই মৌসুমে খামারিরা সেচের জন্য অপেক্ষা করছেন, কিন্তু পানি নেই। সরকার খোলা তেলও দেয় না এবং কার্ড নিয়ে আসতে বলে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তারা কার্ড আনবেন কীভাবে। তিনি সতর্ক করেন, এভাবে চললে দেশ খাদ্যঘাটতিতে পড়বে।
জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় শিশুদের স্কুল বন্ধ করে ঘরে পাঠানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। করোনার সময় পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ায় অনেক শিশু ড্রপআউট হয়েছে এবং অনেকে বিপথে চলে গেছে। তিনি বলেন, যদি একইভাবে সরকার এগোতে থাকে, তাহলে জাতিকে অন্ধত্ব ও মূর্খতার চাদরে ঢেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ডা. শফিকুর রহমান গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, বাংলাদেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ৫৪ বছরে দফায় দফায় যে ফ্যাসিবাদ জাতিকে এগিয়ে যেতে দেয়নি, তা চব্বিশের বিপ্লবীরা বঙ্গোপসাগরে, নালায়, নর্দমায় ছুঁড়ে মেরেছিল। এখন কেউ এটাকে পুনরায় নর্দমা থেকে তুলতে চায়।
তিনি সতর্ক করেন, এই প্রজন্ম প্রমাণ করেছে, তারা জেগে উঠলে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর আন্দোলন করার প্রয়োজন হয় না। তাদের বুক চিতিয়ে ফ্যাসিবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করা তাদের কলিজায় কাঁপন ধরিয়ে দেয়। শফিকুর রহমান বলেন, এই প্রজন্মের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এখনও স্পষ্ট এবং বিরোধী দল তাদের সঙ্গে আছে।
Leave a Reply