আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চলতি বছরের প্রথমার্ধেই চীন সফর করবেন বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) শুরু হওয়া বেইজিং সফর শেষে বুধবার এ তথ্য জানান তিনি।
রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকে ল্যাভরভ বলেন, সফরের সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে এই সফরের মাধ্যমে ২০০১ সালের জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত চীন-রাশিয়া মৈত্রী চুক্তির নবায়ন হতে পারে, যা দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
তিনি জানান, পুতিনের সম্ভাব্য সফরের কর্মসূচিতে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো। পাশাপাশি জ্বালানি, অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুদিনের সফরে ল্যাভরভ মঙ্গলবার তার চীনা সমকক্ষ ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর বুধবার সকালে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
এ বছর চীন-রাশিয়া কৌশলগত সমন্বয় অংশীদারত্বের ৩০ বছর এবং দুই দেশের মৈত্রী চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি হচ্ছে—যা পুতিনের এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
রাশিয়ার দৈনিক ভেদোমস্তি জানিয়েছে, সফরটি মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ১৮ মে’র সপ্তাহকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর হয়েছে। গত বছর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
সবশেষ গত সেপ্টেম্বরে চীন সফর করেন পুতিন। সে সময় তিনি তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন এবং বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজেও উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের আসন্ন এই সফর শুধু রাশিয়া-চীন সম্পর্ক নয়, বরং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতেও নতুন বার্তা দিতে পারে।
Leave a Reply