ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)-তে অসচ্ছল সহশিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য কুরবানির আয়োজন করে আসছিলেন। ঈদ এলেই এফডিসিতে তার আয়োজন ঘিরে তৈরি হতো উৎসবের আমেজ। তবে গত কয়েক বছরের মতো এবারও এফডিসিতে কুরবানি দিচ্ছেন না এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরীমনি জানান, এবারের ঈদ তিনি গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে কাটাবেন। দীর্ঘদিন পর আত্মীয়স্বজন ও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি।
পরীমনি বলেন, ২০১৬ সাল থেকে টানা কয়েক বছর তিনি এফডিসিতে কুরবানির আয়োজন করেছেন। সেখানে কুরবানির মাংস অসচ্ছল শিল্পী, টেকনিশিয়ান ও কর্মচারীদের মধ্যে বিতরণ করা হতো। তার এই উদ্যোগে অনেক সহশিল্পী ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পেতেন।
তিনি বলেন, “আমি সবসময় চাই এফডিসিতে কুরবানির আয়োজন হোক। আমি থাকি বা না থাকি, সেখানে যারা আছেন, বিশেষ করে যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়, তারা যেন উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন।”
অভিনেত্রী জানান, পারিবারিক কারণেই এখন গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপনের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে তার নানু সবসময় চাইতেন, ঈদের সময় তিনি পরিবারের সঙ্গে থাকুন এবং নিজের হাতে কুরবানির মাংস আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলিয়ে দিন।
পরীমনি বলেন, “প্রায় আট-নয় বছর শুধু এফডিসির আয়োজন নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। তখন পরিবারের সঙ্গে ঈদ করা হয়ে ওঠেনি। পরে মনে হয়েছে, এফডিসির দায়িত্ব এখন অন্যরাও নিচ্ছেন। তাই আবার পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, ঈদ মানেই শুধু কুরবানি নয়, এটি ভালোবাসা, ভাগাভাগি ও মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর উৎসব। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি।
সবশেষে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমি জানি না কতটুকু করতে পারছি, তবে চেষ্টা করি ঈদের আনন্দটা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে। আমি চাই সবার ঘরে আনন্দ থাকুক, সবার মুখে হাসি ফুটুক। এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
Leave a Reply