পাট শিল্পকে ৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য সরকারের
Reporter Name
Update Time :
মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
১৫
Time View
তিস্তা নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পাট শিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও বহুমুখী পণ্যের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করে বিশ্ববাজারে নতুন অবস্থানে নিয়ে যেতে চায় সরকার। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, যথাযথ পরিকল্পনা, উন্নত বীজ উৎপাদন, প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানিযোগ্য বহুমুখী পাটপণ্যের প্রসার ঘটানো গেলে দেশের পাট খাতকে বর্তমান প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় থেকে ৫ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনাময় শিল্পে রূপান্তর করা সম্ভব।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রোমোশন সেন্টার-এ আয়োজিত ‘বহুমুখী পাটপণ্য মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল পাট খাত। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছিল পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে। সে সময় ৩৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৩১৩ মিলিয়ন ডলারই ছিল পাট খাতের অবদান। কিন্তু বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পিছিয়ে পড়া এবং বহুমুখী পণ্যের অভাবে ধীরে ধীরে এ খাতের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে অনেক দেশ এখন প্রাকৃতিক তন্তু নির্ভর পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। এই বৈশ্বিক পরিবর্তন বাংলাদেশের পাট খাতের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। কারণ পাট শুধু পরিবেশবান্ধব নয়, এটি সহজে পুনর্ব্যবহারযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদাও ক্রমেই বাড়ছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, পাট খাতের উন্নয়নের প্রথম ধাপ হলো উন্নতমানের পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ৬ হাজার টন পাটবীজের প্রয়োজন হলেও এর বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয়ভাবে উচ্চফলনশীল ও মানসম্মত বীজ উৎপাদনের জন্য গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি জানান, শুধু কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নির্ভর না করে উচ্চমূল্যের বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পাট দিয়ে তৈরি ব্যাগ, জিও-টেক্সটাইল, হোম ডেকোর সামগ্রী, ফ্যাশন পণ্য, কার্পেট, ফার্নিচার উপকরণ ও পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং সামগ্রীর আন্তর্জাতিক বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং রপ্তানি সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, পাট ও চামড়া শিল্পে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদনে সহযোগিতা বাড়াতে চীনের কয়েকটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনবল তৈরি এবং আন্তর্জাতিক বাজার উপযোগী ডিজাইন উদ্ভাবন সহজ হবে।
তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোকে লাভজনক ও আধুনিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উৎপাদন ব্যয় কমানো, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে ধাপে ধাপে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাট খাতের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার নির্দেশনায় সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনার আওতায় পাট খাতের প্রতিটি স্তরের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পাট শিল্পের উন্নয়ন শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেই সহায়ক হবে না, বরং দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে পাটচাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত লাখো কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং গ্রামাঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি পাটপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, রপ্তানি সম্ভাবনা ও উৎপাদন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার বিষয়েও খোঁজখবর নেন।
পাঁচ দিনব্যাপী এই বহুমুখী পাটপণ্য মেলা আগামী ২৩ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সকল দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় দেশীয় উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন উদ্ভাবনী ও পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
Leave a Reply