ভূমি জটিলতা কমাতে ডিজিটাল ভূমিসেবা চালু হবে: প্রধানমন্ত্রী
Reporter Name
Update Time :
মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
১২
Time View
তিস্তা নিউজ ডেস্ক
দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে সরকার ব্যাপক ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তিনির্ভর ভূমিসেবা চালুর ফলে জনগণ এখন ঘরে বসেই দ্রুত ও সহজে বিভিন্ন সেবা পাবেন, ফলে কমবে ভোগান্তি, দুর্নীতি ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর ভূমি ভবনে আয়োজিত জাতীয় ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলার ভূমিসেবা মেলারও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভূমি সংক্রান্ত সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে নানা জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। সেই পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসছে। অনলাইনে নামজারি আবেদন, খতিয়ান সংগ্রহ, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, জমির মালিকানা যাচাইসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো সহজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, একটি আধুনিক ও স্মার্ট রাষ্ট্র গঠনে ভূমি ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক ভূমি পরিকল্পনা, ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং স্বয়ংক্রিয় সেবা চালুর মাধ্যমে জনগণের সময় ও খরচ দুটোই কমবে। পাশাপাশি সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগরায়ণের ফলে ভূমির ওপর চাপ দিন দিন বাড়ছে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা বিবেচনায় রেখে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই করতে হবে।
তিন দিনব্যাপী এই ভূমিসেবা মেলা আগামী বৃহস্পতিবার (২১ মে) শেষ হবে। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ।’
মেলায় সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে নাগরিকরা সরাসরি ভূমি সংক্রান্ত তথ্য, অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া, ডিজিটাল খতিয়ান যাচাই, ভূমি কর পরিশোধ ও ই-নামজারি বিষয়ে সহায়তা পাচ্ছেন। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে দ্রুত ও নির্ভুল ভূমিসেবা পাওয়া সম্ভব, তা নিয়েও সচেতনতামূলক প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সহজ ও নির্ভরযোগ্য ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। সরকারের এই ডিজিটাল কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে ভূমি সংক্রান্ত সেবা গ্রহণে মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Leave a Reply