বিনোদন ডেস্ক
বাংলাদেশের ডিজিটাল বিনোদন অঙ্গনের পরিচিত মুখ, জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার আর নেই। লিভারজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৫ মে) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
কারিনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, চিকিৎসার এক পর্যায়ে ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সময় হঠাৎ করেই কারিনার রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। পরে চিকিৎসকরা দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ ধরেই শারীরিকভাবে দুর্বল অনুভব করছিলেন কারিনা। প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ অসুস্থতা মনে হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন পরীক্ষায় তার শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানান, তিনি হেপাটাইটিস-এ আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর সঙ্গে আগে থেকে থাকা ‘ফ্যাটি লিভার’-এর সমস্যা যুক্ত হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত লিভার ফেইলিউর দেখা দিলে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের Christian Medical College হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার নিবিড় চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকরা প্রথমে ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব চিকিৎসা প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই তরুণ অভিনেত্রী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে অল্প সময়েই তরুণদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন কারিনা কায়সার। প্রাণবন্ত উপস্থাপনা, ব্যতিক্রমধর্মী ভিডিও নির্মাণ ও স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়ের জন্য তিনি অনলাইনে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। বিভিন্ন শর্টফিল্ম, অনলাইন নাটক, লাইফস্টাইল কনটেন্ট ও ব্র্যান্ড প্রচারণায় নিয়মিত কাজ করতেন তিনি। তার হাসিমাখা উপস্থিতি এবং ইতিবাচক ব্যক্তিত্ব দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিল।
কারিনার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে শোকের বন্যা বইছে। সহকর্মী, বন্ধু ও ভক্তরা তার স্মৃতিচারণ করে বলছেন, স্বপ্নবাজ ও সম্ভাবনাময় এই তরুণীর চলে যাওয়া দেশের ডিজিটাল বিনোদন অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। অনেকেই তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
Leave a Reply