“জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নীলফামারীর জলঢাকায় ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ মেলার আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে জলঢাকা উপজেলা ভূমি কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী ও জনসচেতনতামূলক সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লা সালাফী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল আলম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার, উপজেলা জামায়াতের আমীর মোকলেছার রহমান মাস্টার, প্রেসক্লাব সভাপতি কামরুজ্জামান-সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে ভূমি সংক্রান্ত সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের জটিলতা ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হতো। এখন অনলাইনে ই-নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবা চালুর ফলে মানুষ সহজেই সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লা সালাফী বলেন, ভূমি সংক্রান্ত দালালচক্র ও দুর্নীতি বন্ধে জনগণকে সচেতন হতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব এবং এতে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়িত হলে ভূমি নিয়ে বিরোধ ও হয়রানিও অনেকাংশে কমে আসবে।
সভায় বক্তারা জনগণকে অনলাইনে সরকারি ভূমিসেবা গ্রহণে উৎসাহিত করেন এবং ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্র সংরক্ষণ, সঠিক তথ্য প্রদান ও প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
মেলায় ভূমি রেকর্ড, নামজারি, খতিয়ান যাচাই, অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ও নাগরিক সেবা বিষয়ক বিভিন্ন তথ্যসেবা স্টল স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্টলে আগত সেবাগ্রহীতাদের সরাসরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
আয়োজকরা জানান, সাধারণ মানুষের মাঝে ডিজিটাল ভূমিসেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবাকে আরও সহজলভ্য করতে এ ধরনের মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও জনবান্ধব ও আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply