ডিভাইস আসক্তি থেকে শিশুদের দূরে রাখতে বাস্তব শিক্ষা জরুরি: ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি
Reporter Name
Update Time :
বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
২
Time View
মোনাব্বেরুল হক মোনা নীলফামারী প্রতিনিধি
শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি নির্ভরতা কমিয়ে তাদের বাস্তবমুখী শিক্ষা, মানবিকতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস (হ্যাপি)। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি শিশুদের নৈতিক বিকাশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
বুধবার (২০ মে) জলঢাকা উপজেলা মডেল মসজিদে মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ আয়োজিত “নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মউশিক শিক্ষকদের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও হ্যাপি বলেন, আজকের অনেক শিশু ও কিশোর অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কারণে পরিবার, সমাজ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। বড়দের সম্মান করা, সামাজিক নিয়ম-কানুন মেনে চলা এবং মানবিক আচরণের চর্চা দিন দিন কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, পরিবার ও সমাজকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। শিশুরা যেন খেলাধুলা, বইপড়া, ধর্মীয় শিক্ষা এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজেদের বিকাশ ঘটাতে পারে—সে পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা একটি সুস্থ সমাজ গঠনের ভিত্তি। শিক্ষকরা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, কারণ তাদের হাত ধরেই একটি প্রজন্ম গড়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের সদস্য মোঃ আব্দুল আজিজ। প্রধান আলোচক ছিলেন জেলা মউশিক সভাপতি মোঃ ইব্রাহিম খলিল। উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মোঃ ফেরদৌস ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মোখলেছুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের আমির এবং আলহাজ কামারুজ্জামান, নায়েবে আমিরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা সবাই শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
শেষে গুণী শিক্ষক ও সমাজে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল উৎসবমুখর, শিক্ষামূলক এবং ভাবগম্ভীর পরিবেশে সম্পন্ন।
Leave a Reply