জেলা প্রতিনিধি
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও সচল হতে যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর। আগামী দুই বছরের মধ্যে বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জে অবস্থিত পরিত্যক্ত বিমানবন্দর প্রাঙ্গণে জেলা বিএনপি আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সুধীজনের উপস্থিতিতে পুরো বিমানবন্দর এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালুর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটি বাস্তবায়নের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি জানান, ঠাকুরগাঁও ও বগুড়ার বন্ধ বিমানবন্দর পুনরায় চালুর প্রকল্প পরিকল্পনা বিভাগের ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তিনি আরও বলেন, খুব দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাই, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ শুরু হবে। রানওয়ে আধুনিকায়ন, টার্মিনাল ভবন সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সুবিধা স্থাপনের মাধ্যমে বিমানবন্দরটিকে যাত্রীসেবার উপযোগী করে তোলা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী দুই বছরের মধ্যেই ঠাকুরগাঁওয়ের আকাশে আবারও উড়বে যাত্রীবাহী বিমান।
বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বিমানবন্দরটি চালু হলে শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, পুরো উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে। কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের পণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা ও বিনিয়োগ খাতে তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা।
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নবগঠিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইসরাফিল শাহীন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, জাহিদুর রহমান এবং ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ শহীদ উজ্জামানসহ অনেকে। বক্তারা বলেন, বিমানবন্দরটি চালু হলে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি নতুন যুগের সূচনা হবে।
Leave a Reply