1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tistanewsbd : Md. Amdadul Hoque
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৩:২৪ অপরাহ্ন

শরীয়তপুরে স্ত্রী স্বামীকে হত্যার পর দেহ টুকরো টুকরো করে ভিন্নভাবে রাখলেন

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
  • ১৭ Time View

জেলা প্রতিনিধি

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক স্ত্রীর বিরুদ্ধে। পরে দেহের বিভিন্ন অংশ ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে গিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহে ধরা পড়েন তিনি। এ ঘটনায় ঘাতক স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।
দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সম্প্রতি সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।
গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা আক্তার তার স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এরপর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে আসমা মরদেহটি ছুরি দিয়ে কয়েক টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করেন। দেহাংশ একটি ড্রামে ভরে বাসায় রেখে দেন প্রায় তিন দিন।
পরে শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে দেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।
পুলিশ জানায়, দেহের মাংসের অংশগুলো তিনি শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার তার আগের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখতে চান। কিন্তু তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।
একই দিন বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকেও নিহতের চারটি হাত-পা উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্ত আসমা আক্তার দাবি করেন, স্বামী প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিন ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি রড দিয়ে আঘাত করলে স্বামী পড়ে যান। ‘আমি বুঝতে পারিনি এত বড় ঘটনা হয়ে যাবে।’
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখে ওই নারী। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 JaldhakaITPark
Theme Customized By LiveTV