আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানেজের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক আদালতের নির্দেশনা ও আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত ওই নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করে। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থান নেওয়ার কারণে আলবানেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, যা মার্কিন সংবিধানে থাকা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ফ্রান্সেসকা আলবানেজ একজন ইতালীয় আইনজীবী। তিনি জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করছেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ বিবেচনার সুপারিশ করেন। পাশাপাশি এক প্রতিবেদনে কয়েকটি মার্কিন কোম্পানির বিরুদ্ধে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে সহযোগিতার অভিযোগও তোলেন তিনি।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, তিনি আইসিসিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি নাগরিক, কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করেছেন। ওই নিষেধাজ্ঞার কারণে তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও ব্যাংকিং কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে আলবানেজের পরিবারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। তার স্বামী এবং মার্কিন নাগরিক কন্যা এ বিষয়ে আইনি লড়াই শুরু করেন।
১৩ মে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক রিচার্ড লিওনে রায়ে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করলেও সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী আলবানেজের মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত। আদালত আরও বলেন, প্রশাসনের পদক্ষেপ মূলত তার বক্তব্য ও মতামতের কারণে সীমাবদ্ধতা আরোপের চেষ্টা হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পর মার্কিন অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল জানায়, আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে না। পরবর্তী সময়ে সেটিই কার্যত প্রত্যাহারের পথে গড়ায়।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোয়াইট হাউস থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply