তিস্তা নিউজ প্রতিবেদন
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ধীরে ধীরে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি হাজিরা। সৌদি আরব থেকে ফিরতি ফ্লাইটে ইতোমধ্যে ২৫ হাজার ৩৭৭ জন হাজি দেশে পৌঁছেছেন, যা মোট হজযাত্রীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে ২ হাজার ৫০০ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ২২ হাজার ৮৭৭ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেছিলেন। অবশিষ্ট হাজিদের ফিরিয়ে আনতে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিমান চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
হাজিদের পরিবহনে সবচেয়ে বেশি যাত্রী বহন করেছে সৌদি এয়ারলাইন্স। সংস্থাটি এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৭৩০ জনকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ফিরেছেন ৭ হাজার ৮৯৬ জন এবং ফ্লাইনাসের মাধ্যমে ফিরেছেন ৭ হাজার ৭০০ জন হাজি। অন্যান্য এয়ারলাইন্সে আরও ৫১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী দেশে ফিরেছেন।
এ পর্যন্ত মোট ৬২টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ২৪টি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৯টি এবং ফ্লাইনাস ১৯টি ফ্লাইট।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, এবারের হজ ব্যবস্থাপনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, হাজিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হাজিদের চিকিৎসা, আবাসন ও অন্যান্য সেবা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
হজ মৌসুমে চিকিৎসাসেবা প্রদানে সক্রিয় ছিল বাংলাদেশ হজ মেডিকেল টিম। তাদের তত্ত্বাবধানে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশি হাজিদের জন্য ৫৫ হাজার ২৮৬টি প্রেসক্রিপশন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৫ হাজার ১০০টির বেশি সেবা প্রদান করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ২৫১ জন বাংলাদেশি হাজি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে ১৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন মক্কার আন-নুর হাসপাতাল, কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতাল, কিং ফয়সাল হাসপাতাল এবং আজিজিয়ার বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি আছেন।
এদিকে, চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৪৫ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৯ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী। মৃতদের অধিকাংশই মক্কা ও মদিনায় ইন্তেকাল করেছেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবশিষ্ট হাজিদের দেশে ফেরানো এবং সৌদি আরবে অবস্থানরতদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সার্বক্ষণিক কাজ করছে। হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply