স্বপ্নার বিরুদ্ধে আদালতে রামিসার মায়ের সাক্ষ্য বার বার ডাকলেও দরজা খোলেনি স্বপ্না
Reporter Name
Update Time :
মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
২৬
Time View
তিস্তা নিউজ প্রতিবেদন
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) আদালতে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দেন ভুক্তভোগী শিশুটির মা পারভীন আক্তার।
তিনি আদালতকে জানান, ঘটনার দিন তিনি বাসায় রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। রান্না শেষের দিকে এসে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ সময় বড় মেয়ে জানায়, রামিসা তার সঙ্গে নেই। তবে তখন তিনি বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে বাইরে কোথাও গেছে কি না তা নিশ্চিত হতে পারেননি।
পারভীন আক্তার আরও বলেন, রান্নার সময় হঠাৎ একটি চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন। কিন্তু তিনি ভেবেছিলেন পাশের বাসার কোনো শিশুর শব্দ। পরে দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর তৃতীয় তলায় পাশের ফ্ল্যাটের সামনে মেয়ের একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন, তখন তার সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
তিনি আদালতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বারবার তিনি স্বপ্না নামের একজনকে দরজা খুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন, কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আশপাশের লোকজনও দরজায় ধাক্কা দিলেও ভেতর থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
পরে একপর্যায়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা খোলা হলে ভেতরে রক্তের চিহ্ন দেখতে পান তারা। এরপর সেখান থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয় বলে আদালতে জানান তিনি।
জবানবন্দিতে পারভীন আক্তার আরও দাবি করেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বপ্না আক্তার উপস্থিত লোকজনকে জানিয়েছিল—সোহেল রানা নামের একজন ঘটনাটি ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর জেরার সময় তিনি জব্দ তালিকায় থাকা স্বাক্ষর নিজের বলে নিশ্চিত করেন এবং আদালতে উপস্থিত স্বপ্না আক্তারকে মামলার আসামি হিসেবে শনাক্ত করেন।
সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে আদালতের বিচারক ও আইনজীবীরা তাকে ধৈর্য ধরে বক্তব্য সম্পন্ন করতে সহায়তা করেন।
এর আগে মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে শিশুটির বাবা আদালতে সাক্ষ্য দেন। ভুক্তভোগীর বড় বোন শিশু হওয়ায় তার সাক্ষ্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হচ্ছে। মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
Leave a Reply