জেলা প্রতিনিধি
যশোরের বেনাপোল সীমান্তে গভীর রাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে সীমান্তে বিজিবির সতর্ক অবস্থান ও তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত ১২টার পর বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে কয়েকটি যানবাহনের অস্বাভাবিক চলাচল এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বাতি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে টহল ও নজরদারি বাড়িয়ে দেয়।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, রঘুনাথপুর বিওপির আওতাধীন সীমান্ত পিলার ১৯/৩-এস থেকে ১৯/৫-এস এলাকার বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে তিনটি গাড়ি এসে থামে। এরপর সীমান্তজুড়ে থাকা আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে বিএসএফ সদস্যদের চলাচল ও তৎপরতা বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়।
বিজিবির দাবি, রাতের অন্ধকারে প্রায় ১১০ থেকে ১২০ জনকে সীমান্তের দিকে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়। ধারণা করা হচ্ছিল, তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকায় বিএসএফ তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
একপর্যায়ে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি ১০ থেকে ১২ জনকে অবস্থান করিয়ে রাখা হয়। এতে নতুন করে পুশইনের আশঙ্কা তৈরি হয়। বিজিবি দ্রুত বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং কঠোর আপত্তি জানায়।
সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে বিএসএফ পরে জানায় যে সীমান্তের কাছে অবস্থানরত ব্যক্তিদের তারা পুনরায় ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেবে। এরপর দুই বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
ঘটনার সময় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাতের বেলা সীমান্তের আলো হঠাৎ নিভে যাওয়ায় অনেকেই ঘর থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে বিজিবির অতিরিক্ত টহল দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশইনের অভিযোগ একাধিকবার সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় সাধারণত ভারতীয় ভূখণ্ডে আটক থাকা বাংলাদেশি নাগরিক কিংবা পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া ব্যক্তিদের সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের প্রত্যাবাসন দুই দেশের প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন কিংবা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বেনাপোল সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, বিজিবির দ্রুত পদক্ষেপ ও কঠোর অবস্থানের কারণেই সম্ভাব্য পুশইনের ঘটনা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগের গুরুত্বও নতুন করে সামনে এনেছে।
Leave a Reply