1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tistanewsbd : Md. Amdadul Hoque
সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন

ভারতের কিছু ভূখণ্ড নেপালের নিয়ন্ত্রণে: বালেন্দ্র শাহের দাবি

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬
  • ১৭ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনার মধ্যে নতুন বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি বলেছেন, সীমান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে শুধু নেপালের ভূখণ্ড ভারত দখল করে রেখেছে—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বাস্তবে নেপালের নিয়ন্ত্রণেও ভারতের কিছু ভূখণ্ড রয়েছে। তাই এ ধরনের জটিল বিষয় নিয়ে দুই দেশের উচিত পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ না তুলে আলোচনার টেবিলে বসে স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা।

রোববার (৩১ মে) নেপালের সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। শ্রম সংস্কৃতি পার্টির সংসদ সদস্য অ্যারেন রাই সীমান্ত বিরোধ এবং ভারত-চীন বাণিজ্য রুট নিয়ে প্রশ্ন তুললে তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ বক্তব্য দেন।

বালেন্দ্র শাহ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সীমান্তসংক্রান্ত সরকারি নথি, মানচিত্র ও বিভিন্ন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতে গিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন যে সীমান্ত ইস্যু একতরফা নয়। উভয় দেশের মধ্যেই কিছু বিতর্কিত এলাকা রয়েছে এবং দুই পক্ষেরই কিছু দাবি রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক ও বাস্তবসম্মত আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

তিনি বলেন, “শুধু ভারত নেপালের জমি দখল করে রেখেছে—এমন নয়। নেপালের নিয়ন্ত্রণেও ভারতের কিছু এলাকা রয়েছে। তাই দুই দেশের উচিত তথ্য-উপাত্ত ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার ভিত্তিতে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া।”

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিশেষভাবে লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি অঞ্চলের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বহু বছর ধরে এই অঞ্চলগুলোকে কেন্দ্র করে ভারত ও নেপালের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ চলে আসছে। নেপাল দাবি করে, এসব এলাকা তাদের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অংশ। অন্যদিকে ভারতও এসব অঞ্চলের ওপর নিজস্ব অবস্থান ধরে রেখেছে।

বালেন্দ্র শাহ জানান, বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে নেপাল ইতোমধ্যে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে। এর জবাবে ভারত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তার ভাষায়, দুই দেশ ইতিহাসবিদ, জরিপ বিশেষজ্ঞ, মানচিত্রবিদ এবং সীমান্ত বিষয়ে অভিজ্ঞ প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ টেকনিক্যাল টিম গঠন করতে পারে। ওই টিম অতীতের চুক্তি, সীমান্ত মানচিত্র এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সুপারিশ প্রদান করবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্ত বিরোধের ঐতিহাসিক শিকড় ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমলে প্রণীত সীমারেখার সঙ্গে জড়িত। ফলে বিষয়টি শুধু ভারত ও নেপালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাজ্যেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তিনি জানান, এ বিষয়ে নেপাল চীন ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। কারণ সীমান্ত নির্ধারণের অনেক নথি ও ঐতিহাসিক তথ্য ব্রিটিশ আমলের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিভিন্ন জাতীয় কমিশন ও তদন্ত কমিটির জমা দেওয়া প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশ এবং গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত জেন-জেড বিক্ষোভ-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনও রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের কিছু ভূখণ্ড নেপালের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর এমন প্রকাশ্য মন্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধের বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে নতুন সংলাপ ও সমঝোতার পথও উন্মুক্ত করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 JaldhakaITPark
Theme Customized By LiveTV