জেলা প্রতিনিধি
কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে হাটহাজারী এলাকায় বসেছে জমজমাট পশুর হাট। তবে হাটের একটি বড় অংশ গড়ে উঠেছে সরাসরি রেললাইনের ওপর ও আশপাশে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও নিরাপত্তা শঙ্কা। অভিযোগ উঠেছে, ঝুঁকিপূর্ণ এই অবৈধ হাট সরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
রেলওয়ে আইন অনুযায়ী, রেললাইনের দুই পাশে ১০ ফুট করে মোট ২০ ফুট এলাকা সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া সেখানে সাধারণ মানুষের অবস্থান কিংবা গবাদিপশু রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি ওই এলাকায় থাকা পশু জব্দ করে নিলামে বিক্রির বিধানও রয়েছে।
কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। হাটে আসা ব্যবসায়ীরা রেলের স্লিপার, সিগন্যাল পোস্ট ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সঙ্গে গরু-ছাগল বেঁধে রাখছেন। কেউ কেউ আবার সরাসরি লাইনের ওপর বসেই পশু কেনাবেচা করছেন। ট্রেন আসার সংকেত মিললেই শুরু হচ্ছে আতঙ্ক ও ছোটাছুটি। দ্রুত পশু সরিয়ে নিতে গিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
পশু কিনতে আসা মো. জামাল উদ্দিন বলেন, রেললাইনের পাশে হাট বসানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি মনে করেন, সরকার যেহেতু এ খাত থেকে রাজস্ব আদায় করছে, তাই নিরাপদ ও নির্ধারিত স্থানে পশুর হাটের ব্যবস্থা করা উচিত।
একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গরু বিক্রেতা নূর আলম। তাঁর ভাষ্য, ট্রেন চলাচলের মধ্যে পশু নিয়ে অবস্থান করাটা সবসময় আতঙ্কের, কারণ যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে হাটহাজারী রেলস্টেশন এলাকায় এই অবৈধ হাট পরিচালনার সুযোগ করে দিচ্ছে। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে সরাসরি কোনো প্রমাণ মেলেনি।
হাটের ইজারাদার মোহাম্মদ ইব্রাহিম সওদাগর দাবি করেন, দেশের অন্যান্য স্থানের মতো করেই এখানে রেললাইনের ওপর হাট বসানো হয়েছে।
তবে পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন জানিয়েছেন, রেললাইনের ওপর পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
অন্যদিকে রেলওয়ের কর্মকর্তা মো. সুবক্তগীন স্পষ্টভাবে বলেন, রেললাইনে পশুর হাট বসানোর কোনো বৈধতা নেই। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply