জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির আয়োজন করবে পাকিস্তান
Reporter Name
Update Time :
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
১৪
Time View
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে, তার আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনের হোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে পাকিস্তান।
সোমবার (১৫ জুন) পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে দেওয়া এক বক্তব্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) জেনেভায় এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে দুই পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি, উত্তেজনা হ্রাস এবং পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে একটি সমন্বিত কাঠামোও তৈরি হয়েছে।
শাহবাজ শরিফ আরও জানান, এই পুরো শান্তি উদ্যোগে পাকিস্তান সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক আলোচনার পর ধাপে ধাপে অগ্রগতি ঘটেই শেষ পর্যন্ত এই চুক্তির ভিত্তি তৈরি হয়। তার ভাষায়, এটি কেবল একটি কূটনৈতিক চুক্তি নয়, বরং দীর্ঘ সংঘাতের অবসানে একটি বড় অর্জন।
তিনি বলেন, কয়েক মাসের নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্থিতিশীলতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সাফল্যকে তিনি আঞ্চলিক শান্তি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য তিনি বিভিন্ন দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষ করে কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি চীন, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থনকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই অর্জনে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সশস্ত্র বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। তিনি সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে সংসদে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এই কূটনৈতিক সাফল্যকে সরকারের দৃঢ় নেতৃত্বের ফল বলে অভিহিত করেন এবং সামরিক–বেসামরিক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিরোধী দল পিটিআই-এর এক প্রতিনিধি সংসদে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, চূড়ান্ত স্বাক্ষর অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে এবং এই শান্তি প্রক্রিয়া নতুন কোনো বাধার মুখে পড়বে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে নতুন স্থিতিশীলতার সূচনা করতে পারে।
Leave a Reply