আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার পরিবর্তে অর্থনৈতিক অবরোধই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে এবং এর ফলেই ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।
নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘শক্তিশালী, টেকসই ও কার্যকর’ চুক্তি এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সম্ভাবনাময়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।
ট্রাম্পের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এমন পর্যায়ে রয়েছে যে চাইলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আরও ব্যাপক হামলা চালানো সম্ভব। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপে বিপুল প্রাণহানি ঘটতে পারে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময়ের জন্য অচল হয়ে যেতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সামরিক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, যেখানে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অনেক বেশি কার্যকর ফল দিচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্য, তেল রপ্তানি ও আর্থিক খাত চাপে রয়েছে, যা দেশটির নীতিনির্ধারকদের নতুন সমঝোতার দিকে এগোতে বাধ্য করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে ওয়াশিংটন আপাতত সামরিক অভিযানের বদলে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন সমঝোতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনা জোরদার হয়েছে। তবে এখনো উভয় পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত কোনো চুক্তির ঘোষণা আসেনি।
Leave a Reply