1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tistanewsbd : Md. Amdadul Hoque
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন

নাগরিক সেবায় ভোগান্তি কমানোর তাগিদ ডিসি ফরিদার

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
  • ১১ Time View

তিস্তা নিউজ ডেস্ক

ঢাকা জেলা প্রশাসনে ইতিহাস: প্রথম নারী ডিসি ফরিদা খানমের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় ১৭৭২ সালে ব্রিটিশ প্রশাসক ওয়ারেন হেস্টিংসের উদ্যোগে উপমহাদেশে জেলা প্রশাসন ব্যবস্থার সূচনা ঘটে। একই ধারাবাহিকতায় ওই বছরই ঢাকায় জেলা প্রশাসনিক কাঠামোর যাত্রা শুরু হয়। সময়ের পরিবর্তনে ‘ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর’ পদ থেকে বর্তমান ‘জেলা প্রশাসক’ পদে প্রশাসনিক কাঠামো ও দায়িত্বে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক সেবা ও ব্যবস্থাপনার নতুন মাত্রা।

দীর্ঘ ২৫৪ বছরের এই প্রশাসনিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঢাকা জেলা পেয়েছে একজন নারী জেলা প্রশাসক। বিসিএস ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা ফরিদা খানম দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক পদে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

ঢাকা জেলা প্রসঙ্গে ফরিদা খানম বলেন, এটি দেশের সবচেয়ে জনবহুল ও প্রশাসনিকভাবে জটিল অঞ্চলের একটি। প্রায় দুই কোটির বেশি মানুষের সেবা নিশ্চিত করা, দ্রুত নগরায়ণের চাপ, ভূমি ব্যবস্থাপনার জটিলতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং নানামুখী নাগরিক সমস্যা একসঙ্গে সামাল দিতে হয়। এ ধরনের পরিবেশে কার্যকর প্রশাসন পরিচালনার জন্য প্রযুক্তি, পরিকল্পনা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, একজন প্রশাসকের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো জনগণের আস্থা অর্জন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, মানবিকতা এবং সমন্বিত কাজের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কর্মপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং মনিটরিং ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

নারীর প্রশাসনিক নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতে নারীরা এখন দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই দায়িত্ব গ্রহণ নতুন প্রজন্মের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। একজনের সফলতা অন্যদের সাহস ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং ভবিষ্যতে প্রশাসনে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে বয়স্ক, নারী ও শিশুদের দ্রুত সেবা প্রদান, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার এবং নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির সময় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা জেলার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ভূমি প্রশাসন। নামজারি, জমি সংক্রান্ত মামলা, দখল সমস্যা, দীর্ঘসূত্রতা এবং জটিল প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক ভোগান্তির কারণ হয়ে আছে। এসব সমস্যা সমাধানে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

নতুন কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ই-নামজারি দ্রুত নিষ্পত্তি, ভূমি উন্নয়ন কর অনলাইনে গ্রহণ, মামলা বা মিসকেস হ্রাস, নিয়মিত মাঠপর্যায়ের তদারকি এবং ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইনের কঠোর প্রয়োগ। পাশাপাশি সরকারি খাসজমি উদ্ধার ও সংরক্ষণ কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি সম্পদ রক্ষা করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ। সঠিক নীতি, আইনের প্রয়োগ এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ দখল প্রতিরোধ সম্ভব। এ উদ্দেশ্যে ঢাকা জেলার সরকারি জমির একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে, যা ভবিষ্যতে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনবে।

ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ৩০টিরও বেশি সেবা ইতোমধ্যে ‘মাইগভ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে আরও সেবাকে অনলাইনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নাগরিকদের সরাসরি অফিসে এসে ভোগান্তি কমে।

তিনি বলেন, মানুষের সময় ও সম্মান দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেবা হতে হবে দ্রুত, সহজ এবং হয়রানিমুক্ত।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের লক্ষ্য এখন একটি মানবিক, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা। তার মতে, ঢাকা জেলার উন্নয়ন কেবল রাজধানীর জন্য নয়, বরং পুরো দেশের প্রশাসনিক সক্ষমতার প্রতিফলন।

সবশেষে তিনি বলেন, ঢাকা জেলার সফলতা মানেই বাংলাদেশের প্রশাসনিক অগ্রগতির বাস্তব চিত্র।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 JaldhakaITPark
Theme Customized By LiveTV