জেলা প্রতিনিধি,
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে একটি বিশাল জনসভায় বক্তব্য রেখে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি জুলাই সনদের সম্মানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিএনপি কোনো ধরনের সংস্কার নিয়ে লুকোছাপা করেনি এবং জনগণের স্বার্থে কাজ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তারেক রহমান বক্তৃতায় অতীত সরকারের নিন্দা করে বলেন, মেগা প্রকল্পের নামে প্রচুর লুটপাট হয়েছে, যা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেই লুটের টাকা ফিরিয়ে এনে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করবে এবং জনগণের জন্য প্রকৃত সুবিধা নিশ্চিত করবে। তিনি আরও বলেন, অতীতে নিশি রাতে ভোট হয়েছে, সেই রাজনীতি আর হতে দেওয়া হবে না এবং ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
জনসভায় তারেক রহমান রেজিস্ট্রার এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের ঋণ পরিশোধ করা হবে। তিনি রংপুর অঞ্চলের উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, এখানে খনিজ সম্পদ এবং কৃষিতে সমৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এই অঞ্চলকে উন্নত করতে কৃষিজাত শিল্প-কলকারখানা স্থাপন করা হবে এবং আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, রংপুরে আইটি শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, যাতে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং এই অঞ্চলের জনগণের আর্থিক অবস্থাও উন্নত হয়।
তারেক রহমান বিশেষ করে আগস্ট ৫ তারিখের পরিবর্তন চাওয়া জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং নিরাপত্তার অভাব দূর করার জন্য তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য, এবং জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই বিপ্লব এবং পাঁচ আগস্টের আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের ইশারায় হয়নি, বরং তা জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত বিস্ফোরণে ঘটেছে।
এ সময় তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের ভোটের পবিত্র আমানত হিসেবে দায়িত্বপূর্ণভাবে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান এবং বলেন, ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়বেন এবং ভোট কেন্দ্র পাহারা দেবেন, যাতে ভোট ছিনতাই না হয়।
তিনি রংপুর অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া অবস্থা নিয়ে কথা বলেন এবং দাবি করেন যে, এটি আসলে দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ অঞ্চল। তিনি জানান, রংপুর এবং দিনাজপুরে কয়লা, লৌহ খনি, পাথর খনি এবং কৃষিতে বৈশিষ্টপূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে। এই অঞ্চলের সম্পদ ব্যবহার করে দেশকে আরো সমৃদ্ধ ও উন্নত করা সম্ভব হবে। রংপুর অঞ্চলের পানি সংকট সমাধান করতে তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন, যা কৃষিতে বিপ্লব আনবে। তিনি কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দেন।
এছাড়া, তারেক রহমান দেশের ১৬ বছরের নির্বাচনী পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, “নিশি রাতের ভোট আর হতে দেওয়া হবে না।” তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং ফজরের নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট প্রদান করেন।
তারেক রহমান আরো বলেন, তার সরকার নির্বাচিত হলে, তারা নারীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে, যাতে তারা সাবলম্বী হতে পারে। পাশাপাশি, তরুণ-যুব সমাজের জন্য কৃষি কার্ড চালু করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা উপযুক্ত বীজ এবং সার পাবে, যাতে তারা নিজেদের জমিতে একটি ফসলের উৎপাদন বাড়াতে পারে এবং তারা ধীরে ধীরে সাবলম্বী হতে পারে।
এ সময় সভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. জাহিদ হোসেন, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, এবং ৩৩টি আসনের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। রংপুর জেলার ৬টি আসনের প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন মোর্কারম হোসেন সুজন, মোহাম্মদ আলী সরকার, সামসুজ্জামান সামু, এমদাদুল হক ভরসা, অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, ইঞ্জিনিয়ার শাহরিয়ার ইসলাম তুহিন, আব্দুল খালেক প্রমুখ। তারা একযোগে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নতি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার দৃঢ়প্রতিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন।
এই জনসভায় অংশগ্রহণকারী হাজার হাজার মানুষ তারেক রহমানের আহ্বানে সমর্থন জানিয়ে, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার শপথ নেন।
Leave a Reply