ক্রীড়া ডেস্ক
বিতর্কিত নির্বাচনের জেরে শেষ পর্যন্ত নেতৃত্ব হারাতে হলো আমিনুল ইসলাম বুলবুল-কে। গত অক্টোবরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচন ঘিরে যে অভিযোগগুলো উঠেছিল, তার প্রভাবই এসে পড়েছে বর্তমান পরিস্থিতিতে।
অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। বলা হয়, তিনি নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন এবং কাউন্সিলরদের ওপর নিজের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করেন। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রভাবই পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ থেকে ঢাকার ৫০ ক্লাব, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার মনোনয়নবঞ্চিত প্রতিনিধিদের বড় একটি অংশ, সঙ্গে সাবেক ক্রিকেটার, সার্ভিসেস ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ক্যাটাগরি-৩ সদস্যরা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ-এর কাছে।
এরপর ১১ মার্চ সাবেক বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান-এর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর ৫ এপ্রিল তারা প্রতিবেদন জমা দেয় এবং নির্বাচনী কাঠামো সংস্কারের সুপারিশ করে।
তদন্তে উঠে আসে, শেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এবং সাখাওয়াত হোসেন ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ পাওয়া যায়, আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজেও একটি পক্ষ হিসেবে ১০ জন ক্রিকেটারকে মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনী সুবিধা নিয়েছিলেন।
প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এ পাঠানোর পর দ্রুতই পদক্ষেপ নেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। আজ (৭ এপ্রিল) তারা বিসিবির বিদ্যমান কমিটি ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবাল-এর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে।
ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তা আমিনুল এহসান জানিয়েছেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নির্বাচনটি ছিল অনিয়মে ভরা এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ নয়। তাই নতুন কাঠামোর মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এখন দৃষ্টি আইসিসির সিদ্ধান্তের দিকে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্বাচনের অনিয়মগুলো বিবেচনায় নিয়ে সংস্থাটি নতুন কমিটিকে অনুমোদন দেবে।
Leave a Reply