আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ট্রাম্প মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া অথবা চুক্তিতে আসার সময়সীমা দিয়েছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে ইরানের অবকাঠামোতে বিধ্বংসী হামলা চালানো হতে পারে; তবে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়নি এবং বিশেষজ্ঞদের মতে সময়সীমা পেরিয়ে গেলে ইরান প্রচলিত প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের বাইরে গিয়ে ‘লেয়ার্ড অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ার’ কৌশল গ্রহণ করবে, যার উদ্দেশ্য যুদ্ধকে এমনভাবে বিস্তৃত ও ব্যয়বহুল করা যাতে বৈশ্বিক অর্থনীতি নিজেই চাপে পড়ে যায়, আর এই প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি অবরোধ বা সংঘাত বাড়লে ইরান পাঁচটি বড় বিপজ্জনক পদক্ষেপ নিতে পারে— প্রথমত হরমুজ প্রণালিতে স্মার্ট মাইন, নৌ ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও জিপিএস জ্যামিং ব্যবহার করে পুরো সমুদ্রপথকে ‘কিল জোন’ বানিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকে অচল করে দিতে পারে, যার ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়ে ব্যারেলপ্রতি দাম ২০০ ডলারেরও বেশি উঠতে পারে এবং একইসঙ্গে পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের তলদেশে থাকা সাবমেরিন ফাইবার অপটিক ক্যাবল ধ্বংস বা কেটে দিয়ে ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে ইন্টারনেট, ব্যাংকিং, শেয়ারবাজার, বিমান চলাচল ও সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে দিয়ে ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে; দ্বিতীয়ত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনের তেল স্থাপনা, রিফাইনারি, পাইপলাইন এবং সমুদ্রবন্দরকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্য বানিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি করতে পারে এবং একই সঙ্গে এসব দেশের পানি পরিশোধন কেন্দ্র ধ্বংস হলে উপসাগরীয় শহরগুলোতে অল্প সময়ের মধ্যেই তীব্র পানি সংকট দেখা দিতে পারে; তৃতীয়ত ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকার গ্রুপ ও সাইবার ইউনিটগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের বিদ্যুৎ গ্রিড, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক, স্টক এক্সচেঞ্জ, বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও হাসপাতাল অবকাঠামোতে আঘাত হানতে পারে এবং পাশাপাশি জাহাজের GPS ও ন্যাভিগেশন সিস্টেম হ্যাক বা জ্যাম করে সমুদ্রপথে দুর্ঘটনা ও সংঘর্ষ ঘটাতে পারে; চতুর্থত ইরাক ও সিরিয়ায় থাকা মিত্রশক্তি, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং লেবাননের হিজবুল্লাহকে একযোগে সক্রিয় করে মার্কিন ঘাঁটিতে রকেট ও ড্রোন হামলা, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ এবং ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে ধারাবাহিক সামরিক চাপ সৃষ্টি করে বহু ফ্রন্টে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে পারে; পঞ্চমত চীন, রাশিয়া, পাকিস্তানসহ কিছু দেশের জাহাজকে আলাদা নিরাপদ চলাচলের সুযোগ দিয়ে এবং কূটনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে পশ্চিমা জোটের ভেতরে বিভাজন তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সমর্থন দুর্বল করতে পারে, যাতে নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক পদক্ষেপ কার্যকরভাবে চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়; সব মিলিয়ে ইরানের কৌশল সরাসরি যুদ্ধ জেতা নয় বরং এমন একটি বহুমাত্রিক সংকট তৈরি করা যেখানে সামরিক, অর্থনৈতিক, সাইবার ও কূটনৈতিক চাপ একসঙ্গে কাজ করে বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তোলে এবং বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে এই ডেডলাইন ঘিরে পরিস্থিতি দ্রুত আরও বিস্ফোরক রূপ নিতে পারে।
Leave a Reply