ক্রীড়া ডেস্ক
চোট আর অনিয়মিত ফর্মের কারণে দীর্ঘদিন ব্রাজিল জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন Neymar। শেষ আড়াই বছর ধরে জাতীয় দলের আশেপাশেও দেখা যায়নি তাকে। আসন্ন বিশ্বকাপেও তার জায়গা পাওয়া নিয়ে প্রায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে হঠাৎ করেই পরিস্থিতি বদলে গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম The Athletic।
বর্তমানে চোট সমস্যায় ভুগছে Brazil দলও। রদ্রিগো গোয়েস আগেই ছিটকে গেছেন, আর তরুণ উইঙ্গার Estêvão Willian হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ায় আক্রমণভাগে বড় ধাক্কা লেগেছে। গত এক বছরে ব্রাজিলের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই তরুণ তারকার অনুপস্থিতিতে কোচ Carlo Ancelotti-কে এখন নতুন করে দল সাজানোর পরিকল্পনা করতে হচ্ছে।
এই অবস্থায় আক্রমণভাগে বিকল্প হিসেবে রাফিনিয়া, ভিনিসিউস জুনিয়র ও জোয়াও পেদ্রোর মতো খেলোয়াড়দের ভিন্ন পজিশনে ব্যবহার করার কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি লুইজ হেনরি ও রায়ানের নামও আলোচনায় রয়েছে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে।
দলীয় এই অনিশ্চয়তার মাঝেই আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন নেইমার। বয়স, চোট এবং ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তার বিশ্বকাপে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেকের বেশি ব্রাজিলিয়ান সমর্থক এখনো তাকে জাতীয় দলে দেখতে চান।
স্টেডিয়ামেও সমর্থকদের স্লোগানে উঠে এসেছে নেইমারের নাম। এমনকি জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ও তার অভিজ্ঞতা ও ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতার প্রশংসা করেছেন। Gabriel Jesus মনে করেন, নেইমার একাই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন।
তবে সাবেক কিংবদন্তি Cafu ও Zico মনে করেন, শুধু প্রতিভা নয়, ধারাবাহিক ফিটনেসই এখন সবচেয়ে বড় শর্ত। তাদের মতে, ৫০ বা ৭০ শতাংশ ফিটনেসে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া কঠিন।
অন্যদিকে কোচ আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তার দলে সুযোগ পাবেন শুধু সম্পূর্ণ ফিট খেলোয়াড়রা। তিনি বলেন, শারীরিকভাবে প্রস্তুত খেলোয়াড়দেরই তিনি বেছে নেবেন।
নেইমার সম্প্রতি কিছু ম্যাচে টানা ৯০ মিনিট খেললেও বিশ্বকাপ দলে জায়গা নিশ্চিত করতে হলে তাকে আরও প্রমাণ দিতে হবে। বিশ্বকাপ দল ঘোষণার আগে হাতে থাকা কয়েকটি ম্যাচ তাই তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে এস্তেভাওর চোটের পর নেইমারের জন্য বিশ্বকাপের দরজা কিছুটা হলেও আবার খুলে গেছে। এখন সেই দরজা পুরোপুরি খুলতে পারবেন কিনা, তা নির্ভর করছে তার ফিটনেস ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ওপর।
Leave a Reply