তিস্তা নিউজ ডেস্ক
আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নৌযাত্রা নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, এবার থেকে কোনো যাত্রী নৌকা বা স্পিডবোট ব্যবহার করে নদীর মাঝপথে লঞ্চে উঠতে পারবে না।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি বলেন, গত ঈদে ঘটে যাওয়া দুটি নৌ দুর্ঘটনার পর উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নৌ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে একাধিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সদরঘাট এলাকায় নৌকা ও স্পিডবোট থেকে লঞ্চে যাত্রী ওঠা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে যাত্রীরা নির্ধারিত টার্মিনাল পন্টুন ব্যবহার করে লঞ্চে উঠতে পারবেন বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, ফেরিতে গাড়ি ওঠানোর সময় চালকদের যাত্রী নামিয়ে গাড়ি ওঠাতে হবে। দুর্ঘটনা রোধে ফেরি পন্টুনের বেষ্টনী আরও উঁচু ও মজবুত করা হচ্ছে।
ঈদকে সামনে রেখে ২৩ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত মোট ১০ দিন বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। একই সময়ের মধ্যে রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচলও নিষিদ্ধ থাকবে।
সদরঘাটে যাত্রীদের চাপ কমাতে ঢাকার বসিলা ঘাট এবং পূর্বাচল কাঞ্চন ব্রিজ সংলগ্ন শিমুলিয়া ঘাট থেকে লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হবে। যাত্রীদের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে শিমুলিয়া পর্যন্ত বিআরটিসির শাটল বাস সার্ভিস চালু থাকবে।
এছাড়া ঈদের আগে তিন দিন ও পরে তিন দিন (২৫ মে থেকে ৩১ মে) নিত্যপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ থাকবে। তবে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক অগ্রাধিকার পাবে।
সদরঘাটে যাত্রীদের জন্য ট্রলি সেবা এবং অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা থাকবে।
কোরবানির পশুবাহী নৌযান ঘাটে ভিড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হয়রানি করা যাবে না। এসব নৌযানে গন্তব্য ঘাট স্পষ্টভাবে ব্যানারে উল্লেখ করতে হবে।
কোনো লঞ্চ বা নৌযান নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করতে পারবে না বলেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply