1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tistanewsbd : Md. Amdadul Hoque
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন

মালয়েশিয়া যাচ্ছে মন্ত্রী-উপদেষ্টা, লক্ষ্য বন্ধ শ্রমবাজার খোলা

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৭ Time View

ডেস্ক রিপোর্ট

মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনা ঘিরে।

অভিবাসন খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার স্থগিত শ্রমবাজার আবার সচল করার বিষয়ে কার্যকর অগ্রগতি হতে পারে। মূলত কবে থেকে, কী পদ্ধতিতে এবং কোন শর্তে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পেতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর আমন্ত্রণে মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছে। প্রতিনিধি দলটি একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবে, যেখানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই সফরের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক অনুমোদনও আগেই দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে উপদেষ্টা মাহাদী আমিন জানিয়েছেন, সফরকালে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সঙ্গে বৈঠক হবে। এসব আলোচনায় শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা, নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের মধ্যে শ্রম সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।

মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি শ্রমিকদের সমস্যাও এই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে অবৈধ অবস্থানে থাকা কর্মীদের বিষয়ে কার্যকর ও মানবিক সমাধান খোঁজার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপদেষ্টা মাহাদী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার চায় প্রবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষিত থাকুক এবং ভবিষ্যতে অনিয়মিত অভিবাসন কমিয়ে বৈধ উপায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হোক। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সফর সফল হলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সম্পর্ক নতুন গতি পেতে পারে এবং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর ধরে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। এর পেছনে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ভূমিকার অভিযোগ উঠে, যার নেতৃত্বে ছিলেন দাতো আমিন নুর। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করে নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ আদায় করেছিল।

তবে একই সময়ে মালয়েশিয়া অন্যান্য ১৪টি দেশ থেকে কোনো সিন্ডিকেট ছাড়াই শ্রমিক নিয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে গেছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী নিয়োগও সম্পন্ন করেছে।

এদিকে জনশক্তি রফতানিকারকদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে, শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে পুরোনো সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হতে পারে। সীমিতসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আরও কয়েকশ নতুন এজেন্সিকে যুক্ত করার চেষ্টাও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর তদারকি নিশ্চিত না হলে একজন শ্রমিকের বিদেশ যেতে খরচ ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এতে সেই ব্যয় তুলতে একজন কর্মীর দুই থেকে তিন বছর সময় লেগে যেতে পারে, যা তাদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়াবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 JaldhakaITPark
Theme Customized By LiveTV