তিস্তা নিউজ ডেস্ক
দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ঠাকুরগাঁওয়ে গড়ে ওঠা নতুন বিসিক শিল্পনগরী ভবিষ্যতে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এখানে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
শনিবার (৯ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও এ নির্মাণাধীন নতুন বিসিক শিল্পনগরী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রী জানান, সরকার কৃষিনির্ভর শিল্প সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে আলু, চা ও দুগ্ধভিত্তিক শিল্পকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে একটি আধুনিক শিল্প হাব গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ঠাকুরগাঁওয়ে আগে থেকেই একটি সফল ইপিজেড কার্যক্রম চালু রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন বিসিক শিল্পনগরীকে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন শিল্প উদ্যোক্তা এখানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং শিল্প স্থাপনের জন্য প্লট বরাদ্দ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। সরকারের লক্ষ্য শুধু শিল্প স্থাপন নয়, স্থানীয় জনগণকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করাও।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “বেকারত্ব দূর করতে নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপনের বিকল্প নেই। এই শিল্পপার্ক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনীতি সচল এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।”
মন্ত্রী বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষিপণ্য ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিতি পাচ্ছে। এখানকার উৎপাদিত মোজারেলা চিজ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে এবং সমতলের চা চাষেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, স্থানীয় কয়েকজন উদ্যোক্তা বছরে প্রায় ১৯ লাখ কেজি চা প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করছেন, যা এই অঞ্চলের শিল্প সম্ভাবনার বড় উদাহরণ।
দেশের উদ্বৃত্ত আলুর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, “চিপস ও পটেটো ফ্লেক্স তৈরির জন্য উন্নত জাতের আলু প্রয়োজন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কৃষকদের ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’-এর আওতায় এনে উন্নত জাতের আলু চাষে উৎসাহিত করা হবে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০ একর জমির ওপর নির্মিত এই বিসিক শিল্পপার্কে মোট ২৫১টি শিল্প প্লট থাকবে। বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য উদ্যোক্তারা একাধিক প্লটও বরাদ্দ নিতে পারবেন।
পরিদর্শনকালে শিল্প মন্ত্রণালয়, বিসিক এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারাও এ সময় শিল্পনগরী ঘুরে দেখেন এবং সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
Leave a Reply