1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tistanewsbd : Md. Amdadul Hoque
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন

দেশ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবহারের সুযোগ নেই : প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ২৩ Time View

তিস্তা নিউজ ডেস্ক

তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনো যেন কোনো স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শক্তি পুলিশ বাহিনীকে জনগণ, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পুলিশ হবে রাষ্ট্রের আইন ও জনগণের নিরাপত্তার প্রতীক—কোনো গোষ্ঠী বা কর্তৃত্ববাদী শক্তির হাতিয়ার নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস-এ ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ, আধুনিক সরঞ্জাম প্রদর্শনী এবং পেশাগত সক্ষমতার নানা দিক তুলে ধরা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স শুধু একটি স্থানের নাম নয়, এটি সাহস, আত্মত্যাগ ও প্রতিরোধের প্রতীক। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে পুলিশের সদস্যরা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা স্বাধীনতাকামী মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ঢাকায় রাজারবাগে পুলিশের প্রতিরোধ—এই দুটি ঘটনাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে এখনো গবেষণার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মার্চে যখন তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিপুলসংখ্যক সেনা ঢাকায় আনা হচ্ছিল, তখন সব পুলিশ সদস্যকে একসঙ্গে রাজারবাগে রাখার সিদ্ধান্তের পেছনে কী ধরনের রাজনৈতিক বা কৌশলগত চিন্তা ছিল, সেটি ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, আজকের কুচকাওয়াজ কেবল আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী নয়; বরং এটি শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্যাতন-নিপীড়ন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বর্তমান সরকারের মধ্যে। তাই দেশের মানুষ এখন নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রত্যাশা করে, যা নিশ্চিত করতে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় পুলিশকে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। থানায় সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তি সহজ করা, অভিযোগ গ্রহণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা এবং হয়রানিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। একইসঙ্গে জনগণের সঙ্গে মানবিক আচরণ ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ পুলিশ চাইলে দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। এই অর্জন ভবিষ্যতেও ধরে রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ পুলিশ সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা মানবিকতা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাইবার অপরাধ, ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার, অনলাইন জালিয়াতি, জঙ্গিবাদ, মাদক ও মানবপাচারের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তিতে আরও দক্ষ হতে হবে। এজন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল ফরেনসিকস, ডেটা অ্যানালিটিকস, স্মার্ট নজরদারি ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি। পুলিশকে এমন একটি বাহিনীতে পরিণত করতে হবে, যারা আইনের শাসন, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 JaldhakaITPark
Theme Customized By LiveTV