ডেস্ক রিপোর্ট
দেশের ৭৩টি কারাগারে এবার ঈদুল ফিতর উদযাপনে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ও ব্যাপক প্রস্তুতি। ঈদের দিন বৃহস্পতিবার ৮১ হাজার ৫২৪ জন বন্দির জন্য তিন বেলা উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বন্দিরাও পাবেন একই মানের ঈদ-উপহার খাবার। প্রায় ১২ হাজার কারা স্টাফের জন্যও দুপুরে বিশেষ উন্নত খাবারের আয়োজন থাকবে।
কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদকে ঘিরে ইতোমধ্যে সব কারাগারে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করতে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। ঈদ জামাতের স্থান প্রস্তুত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সাজসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল Syed Md Motaher Hossain–এর কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একই ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে চালু না হওয়া তিনটি কারাগারেও।
ঈদের দিনের খাবারের তালিকায় রাখা হয়েছে বৈচিত্র্য। সকালে বন্দিদের দেওয়া হবে পায়েস, সেমাই ও মুড়ি। দুপুরে পরিবেশন করা হবে পোলাও, মুরগির রোস্ট এবং গরু বা খাসির মাংস। ধর্মীয় ও বিদেশি বন্দিদের জন্য বিশেষভাবে খাসির মাংসের ব্যবস্থা থাকবে। সঙ্গে থাকবে সালাদ, মিষ্টি, কোমল পানীয় ও পান। রাতে পরিবেশন করা হবে চিকন চালের ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজা।
স্টাফদের জন্যও রাখা হয়েছে আলাদা উন্নত খাবার। দুপুরে পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরু বা খাসির মাংস, সালাদ ও কোমল পানীয় পরিবেশন করা হবে। এই ব্যয় নির্বাহ করা হচ্ছে কারা অধিদপ্তরের স্টাফ ওয়েলফেয়ার ফান্ড ও স্টাফ কল্যাণ ফান্ড থেকে। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও বন্দি ও সহকর্মীদের সঙ্গে একই পরিবেশে খাবার গ্রহণ করবেন।
কিছু কারাগারে ঈদকে আরও প্রাণবন্ত করতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার আয়োজন রাখা হয়েছে। বন্দিদের মধ্যে থাকা শিল্পীরা গান পরিবেশন করবেন, কোথাও কোথাও বাইরে থেকে সংগীতশিল্পী আনার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো কারা এলাকায় সাজসজ্জা ও পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।
সোমবার রাতের হিসাব অনুযায়ী, ৭৩টি কারাগারে মোট ৮১ হাজারের বেশি বন্দি এবং প্রায় ১১ হাজার ৭০০ স্টাফ দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদের আগে বন্দিদের জামিন ও মুক্তির কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে বন্দি ও তাদের স্বজনরা সাক্ষাতের নিয়ম আরও সহজ করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় পরপর সাক্ষাৎ বন্দিদের মানসিক চাপ বাড়ায় এবং পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
কারা প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে কঠোর নজরদারি ও সংস্কারমূলক উদ্যোগের ফলে কারাগারের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি বন্দিদের কল্যাণে নেওয়া এসব উদ্যোগকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে
Leave a Reply