ক্রীড়া ডেস্ক
২০২২ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায় হয়তো সেখানেই শেষ। বয়স তখনই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল, আর ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি খেলবেন কি না—তা নিয়ে ছিল বড় সংশয়। কারণ তখন তার বয়স দাঁড়াবে ৪১ বছরের বেশি, যা বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলা একজন ফরোয়ার্ডের জন্য বিরল।
কিন্তু সব হিসাব উল্টে দিয়ে আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন তিনি, যা তাকে ইতিহাসে অনন্য এক অবস্থানে নিয়ে গেছে। এবার মাঠে নামলেই তিনি যৌথভাবে লিওনেল মেসির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডের অংশীদার হবেন। আগের পাঁচ বিশ্বকাপে রোনালদো ২২ ম্যাচে অংশ নিয়ে ৮ গোল করেছেন।
পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ রবার্তো মার্তিনেজের ঘোষিত দলে জায়গা পাওয়ার পর রোনালদো ইতোমধ্যে অনুশীলনেও যোগ দিয়েছেন। সোমবার (১ জুন) রাতে তিনি দলের প্রস্তুতি সেশনে অংশ নেন এবং পরে সামাজিক মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। অনুশীলনের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন— “বিশ্বকাপ মিশন শুরু।”
তার এই বার্তাই এখন ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় সব অর্জন থাকলেও বিশ্বকাপ শিরোপা এখনো তার কাছে অধরা। তাই এবারের আসরকে ঘিরে রোনালদোর লক্ষ্য স্পষ্ট— দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা।
পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ রোনালদোর মানসিকতা নিয়ে উচ্চ প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, রোনালদোর সবচেয়ে বড় শক্তি তার অবিরাম ‘ক্ষুধা’। বড় অর্জনের পরও সে থেমে যায় না, বরং প্রতিদিন আরও ভালো হওয়ার তাড়না নিয়ে মাঠে নামে। এই মানসিকতাই তাকে এত বছর ধরে শীর্ষ পর্যায়ে ধরে রেখেছে।
মার্তিনেজ আরও বলেন, অনেক খেলোয়াড় বড় ট্রফি জয়ের পর অনুপ্রেরণা হারিয়ে ফেলে, কিন্তু রোনালদো সেই ব্যতিক্রম। তার মধ্যে সবসময়ই উন্নতির ক্ষুধা কাজ করে, যা তাকে আলাদা করে তোলে।
এদিকে কোচ আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, রোনালদো চাইলে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলতে পারেন। তার মতে, এই পর্যায়ে খেলার অধিকার রোনালদো নিজেই অর্জন করেছেন।
আগামী বিশ্বকাপে পর্তুগালের গ্রুপ পর্ব শুরু হবে ১৭ জুন ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২৩ জুন উজবেকিস্তান এবং ২৮ জুন কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলবে তারা।
সব মিলিয়ে, বয়সকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরেছেন রোনালদো। বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করাই এখন তার শেষ ও সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
Leave a Reply