নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
নওগাঁ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুর জেলায় সংঘটিত একাধিক হত্যাচেষ্টা ও মারাত্মক আঘাতের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণের মাধ্যমে আন্তঃজেলা সিরিয়াল অপরাধী গোলাম মোর্শেদ @ মোরশেদ আলম (২৭)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১৭/০১/২০২৬ তারিখ দিবাগত রাতে, যখন নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানাধীন নানাইচ ও জাহানপুর গ্রামে ভিকটিম উম্মে হাবিবার ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। পরদিন ১৮/০১/২০২৬ তারিখ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একই রাতে আরও দুটি বাড়িতে প্রবেশ করে একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ০৭/০২/২০২৬ তারিখে পুনরায় জাহানপুর গ্রামে ও আশপাশের এলাকায় একাধিক বাড়িতে হামলা চালানো হয়, যেখানে কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
পরবর্তীতে ০৭/০৫/২০২৬ তারিখ রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত বদলগাছি থানার দুর্গাপুর, ঘোয়ালভিটা ও নয়নশহর এলাকায় তিনটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে তিন নারীকে গুরুতর জখম করা হয়। আবার ০৪/০৬/২০২৬ তারিখ পত্নীতলা থানার শিমুলিয়া ও নান্দাশ গ্রামে একই ধরনের হামলায় আরও তিনজন আহত হন।
একাধিক জেলার সমন্বিত তদন্তে অ্যাডিশনাল এসপি জয়ব্রত পাল (ক্রাইম ও অপস)-এর নেতৃত্বে ডিবি ও সাইবার ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধী শনাক্ত করে। পরে ০৯/০৬/২০২৬ তারিখে অভিযান চালিয়ে ১০/০৬/২০২৬ ভোর ৬:৩০ ঘটিকায় গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন শরিফপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে ১৭/০১/২০২৬ থেকে ০৪/০৬/২০২৬ পর্যন্ত সংঘটিত বিভিন্ন হামলার কথা স্বীকার করে এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি নওগাঁ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে অন্তত ১৭–১৮ জন ভিকটিমকে আঘাত করেছে এবং কয়েকটি হত্যাকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলছে। বর্তমানে তাকে একাধিক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply